অনেক মানুষ ভালোভাবে খায় এবং ঠিকমতো ঘুমায়, তবুও তাদের ওজন বাড়ে না। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা ওজন বাড়াতে চায়, অথচ পর্যাপ্ত খাবার ও পুষ্টি গ্রহণ করার পরেও তাদের শরীরের ওজন বাড়াতে অসুবিধা হয়। এর অন্যতম কারণ হতে পারে হজমজনিত সমস্যা, যার ফলে খাবার থেকে পুষ্টি ঠিকভাবে শরীরে শোষিত হয় না। কিছু মানুষ খুব অল্প খেলেও ওজন বেড়ে যায়, আবার কেউ অনেক বেশি খেয়েও মোটা হয় না। অনেকে বেশি খেয়েও মোটা না হওয়ায় বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। কখনো ভেবে দেখেছেন কি বেশি খেয়েও কেন মোটা হচ্ছেন না?
Advertisement
তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক কেন কিছু মানুষ বেশি খেলেও মোটা হয় না-
১. ম্যালঅ্যাবসরপসনম্যালঅ্যাবসরপসন এমন একটি অবস্থা যেখানে খাবার খাওয়া হলেও সেই খাবারের পুষ্টিগুলো অন্ত্রে ঠিকভাবে শোষিত হয় না, বরং শরীর থেকে বের হয়ে যায়। ফলে শরীরের গঠন পাতলা, দুর্বল ও ফ্যাকাশে দেখাতে পারে। ম্যালঅ্যাবসরপসন নিজে কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়, তাই এর সঠিক কারণ নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে এই অবস্থার জন্য দায়ী হতে পারে।
২. পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণের অভাবআপনি যদি অনেক খাওয়ার পরও ওজন বাড়াতে না পারেন, তাহলে এর কারণ হতে পারে আপনার শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে পাচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রোটিন গ্রহণ বাড়ানো জরুরি, কারণ প্রোটিন পেশী গঠনের মূল উপাদান। এটি কম ওজনের মানুষকে ওজন বাড়াতে এবং শক্তিশালী পেশী গঠনে সাহায্য করে। এছাড়া উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিন যেমন মুগ ডাল, শিমের বিচি, সয়াবিন এবং কাজু ও বাদামের মতো পুষ্টিকর বাদাম খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন। এসব খাবার শরীরকে পর্যাপ্ত পুষ্টি দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।
Advertisement
অনেক খাওয়ার পরও ওজন না বাড়ার একটি কারণ হলো অনিয়ম খাদ্যাভ্যাস। যেমন-হজম শক্তি দুর্বল হলে শরীর ঠিকভাবে পুষ্টি শোষণ করতে পারে না। তাই ওজন বাড়াতে চাইলে হজমের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একসঙ্গে অনেক বেশি খেলে হজমতন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে, ফলে খাবার ঠিকভাবে হজম ও শোষণ হয় না।গবেষণায় দেখা যায়, সকালের নাস্তায় দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। এটি বাদ দিলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের ঝুঁকি বাড়ে।
৪. শরীরের ডিটক্সিফিকেশনের অভাবযখন শরীর সঠিকভাবে ডিটক্সিফাই হয় না, তখন শরীরে টক্সিন জমে যেতে পারে, যা মেটাবলিজম ধীর করে দেয়। এর ফলে শরীর সঠিকভাবে পুষ্টি শোষণ করতে পারে না, এবং অনেক খাওয়ার পরও ওজন বাড়ে না ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াকে সাহায্য করতে পুষ্টিকর শাকসবজি ও ফলমূলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্যবহার করা উচিত। শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে গাঢ় সবুজ শাকসবজি, পাকা ফল, মূলজাতীয় সবজি এবং বিভিন্ন পুষ্টিকর বাদাম।
সূত্র: ভিনমেক হিম, হেলথলাইন
আরও পড়ুন: রাতে বাড়িতেও হতে পারে হিট স্ট্রোক, সুরক্ষিত থাকবেন যেভাবে এই সবজি বদলে দিতে পারে আপনার দৃষ্টিশক্তিএসএকেওয়াই
Advertisement