ক্যাম্পাস

ছাত্রদলকে সহিংসতা ও শিবিরকে গুপ্ত রাজনীতি ত্যাগের আহ্বান

ছাত্রদলকে সহিংসতা পরিহার এবং ছাত্রশিবিরকে গুপ্ত রাজনীতি ছেড়ে প্রকাশ্যে গণতান্ত্রিক ধারায় আসার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

Advertisement

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ আহ্বান জানান।

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে মনে করা হয়েছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সন্ত্রাসী রাজনীতির অবসান ঘটবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আবারও সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একসঙ্গে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও এখন আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যেই সংঘাতে জড়াচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে রামদা, হকিস্টিক ও লাঠি ব্যবহারের ঘটনা উদ্বেগজনক। অথচ কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও জড়িত কাউকে আইনের আওতায় আনা হয়নি।

‘গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলো পোস্টটিকে ভুয়া বললেও শাহবাগ থানায় ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও সাহিত্য সম্পাদক হামলার শিকার হন। একই ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১০ সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়েছে, যার তীব্র নিন্দা জানাই,’ যোগ করেন তিনি।

Advertisement

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতির মতে, কেউ নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করতে গেলে তাকে অপরাধী ধরে নিয়ে মারধর করার অধিকার কারও নেই। বিচার করার দায়িত্ব আইনের। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির কাউকেই ক্যাম্পাসে পেশিশক্তির রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা ছাত্ররাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস চাই না। আমরা চাই সন্ত্রাসমুক্ত, শিক্ষার্থীবান্ধব ও গঠনমূলক ছাত্ররাজনীতি। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী রাজনীতির অবসান চাই, কিন্তু ছাত্ররাজনীতির নয়।’

ছাত্রশিবিরের উদ্দেশে নাজমুল হাসান বলেন, এখন আর দমন-পীড়নের সেই পরিবেশ নেই। তাই গুপ্ত রাজনীতি ছেড়ে প্রকাশ্যে এসে গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি করতে হবে। কমিটি বহাল রেখে গোপন রাজনীতি চালালে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাদমান আব্দুল্লাহ বলেন, ‘অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়াচ্ছে দেখে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। গতকাল সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এর পেছনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা রয়েছে। নির্বাচিত সরকারের অধীনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হলেও প্রশাসন এখনো ঘুমন্ত অবস্থায় রয়েছে।’

Advertisement

সাদমান আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, রাজনীতির নামে যারা গুপ্তগিরি করছে কিন্তু সামনে আসছে না, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো গুপ্ত রাজনীতি বা মব চলবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এফএআর/একিউএফ