ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে সমর্থন না দেওয়ায় তাদের মিত্র দেশগুলোকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ন্যাটো জোট থেকে স্পেনকে বহিষ্কার করার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।
Advertisement
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে পাওয়া পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে দেখা গেছে, মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে, তার একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
এই সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাজ্যকে শাস্তি দিতে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়া, যা দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি ‘লাস মালভিনাস’ নামে ডেকে থাকে। এছাড়া ‘সমস্যাসংকুল’ দেশগুলোকে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ বা মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে দূরে রাখার কথাও বিবেচনায় রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। বিশেষ করে, ইউরোপের দেশগুলো ইরানবিরোধী যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের বিরোধিতা করায় তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখিয়েছেন।
Advertisement
এপ্রিলের শুরুতে তিনি আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো জোট থেকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দেন, যদিও পেন্টাগনের ওই ইমেইলে এমন কোনো পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে জোরালো সমালোচক হিসেবে সামনে এসেছে স্পেন। দেশটি শুরু থেকেই এই যুদ্ধকে অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।
পেন্টাগনের ওই ইমেইলে বলা হয়েছে, এসব পদক্ষেপ ন্যাটোর সদস্যদের ন্যূনতম দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও ঘাটতি নির্দেশ করে।
শুক্রবার এসব প্রতিবেদনের জবাবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। সাইপ্রাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, স্পেন ন্যাটোর একটি নির্ভরযোগ্য সদস্য ও আমরা আমাদের সব দায়িত্ব পালন করছি। এই কারণে আমি ট্রাম্পের হুমকি নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নই।
Advertisement
ফকল্যান্ড ইস্যুতেও চাপ
ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পেনের মতো কঠোর না হলেও, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। তবুও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ট্রাম্পের অসন্তোষের মুখে পড়েছেন।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, যিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত, একাধিকবার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার পক্ষে মত দিয়েছেন।
১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে আক্রমণ চালালে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয়, যাতে প্রায় এক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বর্তমানে দ্বীপপুঞ্জটি যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
পেন্টাগনের ওই ইমেইল নিয়ে মন্তব্য জানতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।
তবে যুক্তরাজ্যের ওভারসিজ টেরিটরিজবিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের আত্মনিয়ন্ত্রণ, সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষা- এসব বিষয়ে আমাদের অবস্থান দৃঢ় এবং তা সবসময় অগ্রাধিকার পাবে।
এ বিষয়ে সরকার কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
রয়টার্স পেন্টাগনের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে সংস্থাটির প্রেস সচিব কিংসলে উইলসন বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ন্যাটো মিত্রদের জন্য অনেক কিছু করলেও তারা আমাদের পাশে ছিল না। মার্কিন যুদ্ধ দপ্তর এমন বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প তৈরি করবে, যাতে আমাদের মিত্ররা আর কাগুজে বাঘ হয়ে না থাকে, বরং নিজেদের দায়িত্ব পালন করে। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনার ব্যাপারে আমরা আর কোনো মন্তব্য করছি না।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
এসএএইচ