ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের দুই নেতা, সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের উপর হামলা এবং প্রশাসন কর্তৃক থানায় হয়রানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করছে ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
Advertisement
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৮টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি চত্বরে জড়ো হন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। ভিসি চত্বর থেকে এই বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডাকসু ভবনের সামনে শেষ হয় এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলে তারা ‘মব করে কোন দল, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’, ‘আদু ভাইয়ের ঠিকানা, এ ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘পুলিশ প্রশাসন করে কী, হয়রানি আর দালালি’, ‘শিক্ষা সন্ত্রাস, একসঙ্গে চলে না’সহ নানা স্লোগান দেন।
সমাবেশে শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, যারা বিগত ১৬ বছরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে গিয়েছেন সেসব সাংবাদিক ভাইদের উপরে হামলা করা হয়েছে। আমরা বিগত ফ্যাসিবাদী আমলেও দেখিনি একদিনে এত বেশি সাংবাদিক আহত হয়েছেন। ডাকসুর নেতরা যারা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে বাঁচানোর জন্য গিয়েছিলেন- শাহবাগ থানায় তারাও আহত হয়েছেন।
Advertisement
তিনি বলেন, জুলাইয়ের পরে আমরা বলেছিলাম আমাদের ক্যাম্পাসে এরকম হেনস্তার দিন শেষ হয়ে গিয়েছে। অতীতে আমরা দেখেছি গেস্টরুম, গণরুমে ফার্স্ট ইয়ারের জন্য একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। আমরা বলেছিলাম- সেই অধ্যায় আমরা শেষ করে এসেছি। কিন্তু আমরা দেখলাম আবারও বিভিন্ন হলে আদু ভাইদেরকে তুলে মব ক্রিয়েট করে হলগুলোকে অশান্ত করার কার্যক্রম তারা শুরু করতে চাচ্ছে।
শিবিরের নেতাদের ডাকসুর নেতারা ইতোমধ্যে বলেছে শিবির থাকতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপরে একটি আঘাত আসলে শিবির তার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এসময় তিনি অনতিবিলম্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান।
শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ছাত্রদলের কর্মকাণ্ড দেখলে আমার হাসি পায়। তারা এখনো নব্বইয়ের দশকে বসবাস করছে। ঈশ্বরদী কলেজের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে তারা হামলা চালিয়েছে। কেন? কারণ তারা চায় শিবির তাদের উপর হামলা করুক। তারপর তারা পত্রিকায় ন্যারেটিভ তৈরি করে ক্যাম্পাস দখল করবে। কিন্তু এটা ২০২৬, নব্বইয়ের দশক নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, আমাদের উপাচার্যকে বলতে চাই, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে দুই ধরনের উপাচার্য রয়েছে। একজন ভিসিকে দায়িত্ব নিয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। আরেকজনের জন্য শিক্ষার্থীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে রাত জেগে দোয়া করেছে। আপনি ঠিক করুন, আপনি কোনটি হবেন।
Advertisement
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, গতকাল যখন আমি পড়াশোনায় ব্যস্ত ছিলাম, হঠাৎ আমার মেসেঞ্জারে হত্যার হুমকি আসতে থাকে। আমি নিরাপত্তার জন্য শাহবাগ থানায় মামলা করতে গেলে সেখানে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহসের নেতৃত্বে একদল ছাত্রদল কর্মী আমাকে হত্যার হুমকি দিতে থাকে। পুলিশ আমার জিডি তো নেইনি, উলটো আমাকে একরাত থানায় বসিয়ে রেখে হয়রানি করা হয়। আজ সকালে তারা শুধু একটি সাধারণ অভিযোগ নিয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম, ৫ আগস্টের পর পুলিশ পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু পুলিশলীগ শুধু পুলিশদলে পরিণত হয়েছে।
এফএআর/এনএইচআর