দেশের ইতিহাসে কোনো সরকার এত কম সময়ে মাত্র দুই মাসে এত অজনপ্রিয় হয়েছিল কি না জানা নেই বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার জানা নেই, যারা মুরুব্বি আছেন তারা বলতে পারবেন, দেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে কোনো সরকার এতটা অজনপ্রিয় হয়েছিল কি না। আমরা জানি না আগামী ছয় মাসে তাদের কি পরিণতি হবে।’
Advertisement
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো অস্থিতিশীলতা চাই না। আমাদের দাবি একটাই, গণভোটের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে সম্মান দেওয়া ও শহীদ পরিবারকে সম্মান দেওয়া। আমরা সেটার জন্য রাজপথে এবং সংসদে আছি। ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা এই দাবি আদায় করে ছাড়বো, ইনশা আল্লাহ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধা জাতীয় সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
নাহিদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছে এবং মুক্তিকামী জনগণ প্রতিজ্ঞা করেছিল এ দেশে আর কখনো স্বৈরতন্ত্র ফেরত আসতে দেওয়া হবে না। এজন্য দেশে সংস্কারের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতি পদে পদে বিএনপি সংস্কারে বাধা দিয়ে এসেছে। একটা পর্যায়ে তারা ঐকমত্য কমিশনে আসে। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনে এসেও তারা প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে অসম্মতি জানিয়ে এসেছে।
Advertisement
জনগণের গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পরপরই বিএনপি গণভোটকে অস্বীকার করতে শুরু করেছে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, যে বিএনপির জন্ম হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমে সেই বিএনপি গণ-অভ্যুত্থানের পর গণভোট অস্বীকার করছে। এর মাধ্যমেই বিএনপি মূলত তার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করতে শুরু করেছে।
আওয়ামী লীগের পথে হাঁটালে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই বাংলাদেশের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে বিএনপি যে নতুন করে দলীয়করণ করছে, এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পথেই বিএনপি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের পথে, পুরোনো স্বৈরাচারের পথে এ দেশ এগিয়ে নিতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আবারও রুখে দাঁড়াবে। এ দেশের তরুণ সমাজ আবারও রুখে দাঁড়াবে। গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে দাঁড়াতে বাধ্য হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড দিয়ে জনগণকে ভোলানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এই কার্ড দিতে দিতে তাদের জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে, তেল ফুরিয়ে গেছে। অথচ মন্ত্রীরা সংসদে বলছেন কোনো জ্বালানি সংকট নেই। বাস্তব সমস্যা অস্বীকার করছে, অর্থনৈতিক সমস্যাকে অস্বীকার করছে। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে ক্রমান্বয়ে অবনতি হচ্ছে সেটাকে অস্বীকার করছে। আমরা সর্বাত্মকভাবে এ সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিলাম, দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে। কিন্তু সরকার সহযোগিতা নেওয়ার সব দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল অব. অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ এগারো দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
Advertisement
এনএস/এমআইএইচএস