বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় স্ত্রীর দেওয়া তালাকের খবরে নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে নজরুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন।
Advertisement
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের বারআঞ্জুল গ্রামের মাছির বাজার মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত নজরুল ইসলাম বগুড়া শহরের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আড়িয়া ইউনিয়নের বারআঞ্জুল গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। তিনি নিয়মিত নেশা করতেন ও জুয়া খেলে বিপুল পরিমাণ টাকা দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। দেনার টাকা শোধ করতে তিনি প্রায়ই স্ত্রীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। গত কয়েক দিন ধরে তিনি স্ত্রীকে হয় টাকা দেওয়ার অথবা তাকে তালাক দেওয়ার জন্য জেদ ধরেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তার স্ত্রী তাকে তালাক দেন। বিচ্ছেদের এই খবর জানতে পেরে নজরুল ইসলাম অভিমানে বিকেলে বাজারের পাশে পাকা সড়কের ওপর নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
Advertisement
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত সোয়া ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
আড়িয়া ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য ঝর্ণা বেগম জানান, নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর সংসারে দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তিনি কাজ ছেড়ে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। জুয়া ও মাদকের কারণে পাড়া-প্রতিবেশীর কাছ থেকেও তিনি প্রচুর টাকা ধার নিয়েছিলেন। এসব নিয়ে পারিবারিক অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছালে সর্বশেষ এই বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, নজরুল ইসলাম দেনার কারণে মানসিক চাপে ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দাম্পত্য কলহের জেরে তার স্ত্রী তালাক দিলে ডিপ্রেশনে পরে এই চরম পথ বেছে নেন। এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এমএন/এমএস
Advertisement