একসময় সম্পর্ক ছিল ভালোবাসায় ভরপুর,কিন্তু নানা কারণে সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে। বিচ্ছেদের পর অনেকেই ভেঙে পড়েন, নিজেকে সামলানো কঠিন হয়ে যায়। কেউ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, আবার কেউ দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক কষ্টে ভোগেন। এই কঠিন সময়কে সহজভাবে সামাল দিতে মনোবিজ্ঞানীরা একটি কার্যকর পদ্ধতির কথা বলেন-নো কন্ট্যাক্ট রুল।
Advertisement
সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী কালকি কোয়েচলিন তার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে জানান, বিচ্ছেদের পর প্রাক্তন বলিউড পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কোনো যোগাযোগ না রাখাই তাদের সম্পর্কের তিক্ততা কমাতে সাহায্য করেছে। এই অভিজ্ঞতা থেকেই বিষয়টি নতুন করে নো কন্ট্যাক্ট রুল আবার আলোচনায় আসে।
নো কন্ট্যাক্ট রুল আসলে কী?সহজভাবে বলতে গেলে, ব্রেকআপের পর প্রাক্তনের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখাকেই বলা হয় ‘নো কন্ট্যাক্ট রুল’। এতে ফোন, মেসেজ, সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ সবই বন্ধ রাখতে হয়। এমনকি তার সম্পর্কে অন্যদের কাছ থেকেও খবর নেওয়া এড়িয়ে চলতে বলা হয়। এটি কোনো শাস্তি নয়, বরং নিজেকে মানসিকভাবে সুস্থ করে তোলার একটি সচেতন সিদ্ধান্ত।
কেন প্রয়োজন এই রুল?বিচ্ছেদ মানেই এক ধরনের মানসিক ধাক্কা। সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর মানুষ রাগ, দুঃখ, হতাশা ও একাকিত্বে ভুগতে থাকে। এই অবস্থায় বারবার প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পুরোনো স্মৃতি ও আবেগ আরও গভীর হয়ে ওঠে, যা এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা তৈরি করে।
Advertisement
‘নো কন্ট্যাক্ট রুল’ মূলত এই আবেগের চক্র ভাঙতে সাহায্য করে। এটি মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে শেখায় যে সম্পর্কটি শেষ হয়ে গেছে। ফলে নতুনভাবে জীবনকে দেখার সুযোগ তৈরি হয়।
মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাবমনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, মানুষের মস্তিষ্ক অভ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। একটি সম্পর্কে থাকার সময় আমরা সেই মানুষটির সঙ্গে মানসিকভাবে জড়িয়ে পড়ি। হঠাৎ সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে মস্তিষ্ক সেই অভ্যাস ছাড়তে পারে না। তাই বারবার যোগাযোগের ইচ্ছা হয়।এই অবস্থায় দূরত্ব বজায় রাখা মানে মস্তিষ্ককে নতুন বাস্তবতায় অভ্যস্ত হওয়ার সময় দেওয়া। এতে ধীরে ধীরে মানসিক চাপ কমে, আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে এবং নিজের পরিচয় নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ পাওয়া যায়।
যেভাবে বজায় রাখবেন নো কন্ট্যাক্ট রুলশুরুটা বেশ কঠিন হয় এটাই স্বাভাবিক। তবে কিছু সহজ অভ্যাস এই সময়টাকে সহজ করতে পারে।
১. নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করার একটি নিরাপদ উপায় খুঁজুন। যেমন: ডায়েরি লেখা। যখনই প্রাক্তনের সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করবে, তখন মনের কথা লিখে ফেলুন। এতে আবেগ কিছুটা হালকা হয়।
Advertisement
২. একাকিত্ব এড়িয়ে চলুন। বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
৩. নতুন কিছুতে নিজেকে যুক্ত করুন। নতুন শখ, দক্ষতা বা কাজের মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। এতে মন অন্যদিকে ব্যস্ত থাকবে এবং পুরোনো স্মৃতিতে ডুবে থাকার সময় কমবে।
৪. ডিজিটাল ডিটক্স গুরুত্বপূর্ণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাক্তনের প্রোফাইল দেখা বা স্টক করা এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। তাই প্রয়োজনে কিছু সময়ের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমিয়ে দিন।
কখন আবার যোগাযোগ করা যেতে পারেএই প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। কারণ প্রতিটি সম্পর্ক ও মানুষের মানসিক অবস্থা আলাদা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত ৩ থেকে ৬ মাস সময় নেওয়া উচিত। এ সময়ের মধ্যে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি এখনো আবেগগতভাবে জড়িয়ে আছেন? যদি উত্তর হ্যা হয়, তাহলে যোগাযোগ না করাই ভালো। আর যদি সম্পর্কটি আগে থেকেই টক্সিক হয়ে থাকে, তাহলে স্থায়ীভাবে দূরে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
বিচ্ছেদ মানেই জীবনের শেষ নয়, বরং নতুন একটি অধ্যায়ের শুরু। নো কন্ট্যাক্ট রুল কোনো কঠোর নিয়ম নয়, এটি নিজের প্রতি যত্ন নেওয়ার একটি উপায়। নিজেকে সময় দেওয়া, নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থভাবে এগিয়ে যেতে হলে কখনো কখনো দূরত্বই সবচেয়ে বড় ওষুধ।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে, হিন্দুস্তান টাইমস ভেরি ওয়েল মাইন্ড
আরও পড়ুন:উৎসব বা অনুষ্ঠান হলেই সঙ্গীর সঙ্গে ঝগড়া হয় কেন যে কারণে মানুষ সম্পর্কে জড়ায়এসএকেওয়াই