লাইফস্টাইল

মানুষের নাম মনে থাকে না? আসল কারণ জানুন

মুহূর্তটা খুব পরিচিত, নতুন কারও সঙ্গে দেখা, করমর্দন, হাসিমুখে নিজের নাম বলা-শোনা, তারপর কয়েক সেকেন্ড না যেতেই নামটা যেন মিলিয়ে যায়। কথা এগোয়, কিন্তু নামটি আর মনে আসে না। এই ছোট্ট অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতাকে অনেকেই নিজের স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা বলে ধরে নেন। অথচ বাস্তবতা ভিন্ন, এটি বেশ স্বাভাবিক একটি মানসিক প্রক্রিয়ার অংশ।

Advertisement

স্মৃতিশক্তি নয়, আসল খেলাটা মনোযোগের

স্নায়ুবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, সঙ্গে সঙ্গে নাম ভুলে যাওয়া খুব কম ক্ষেত্রেই ‘খারাপ স্মৃতি’র ফল। বরং এটি নির্ভর করে সেই মুহূর্তে আপনার মন কোথায় ছিল তার ওপর। নতুন কারও সঙ্গে পরিচয়ের সময় আমরা প্রায়ই ব্যস্ত থাকি, কি বলব, কেমন দেখাচ্ছে আমাকে, আশেপাশে কী হচ্ছে এসব ভাবনায়। ফলে নামটি ঠিকমতো গ্রহণই করা হয় না। অর্থাৎ, সমস্যা সংরক্ষণে নয়, শুরুতেই গ্রহণে।

নাম কেন আলাদা?

আমাদের মস্তিষ্ক সব তথ্যকে একভাবে ধরে রাখে না। কিছু বিষয় সহজেই মনে থাকে, কিছু আবার দ্রুত হারিয়ে যায়। নাম হলো এমন এক ধরনের তথ্য, যার সঙ্গে তেমন কোনো অন্তর্নিহিত অর্থ বা ছবি জড়িত থাকে না।

একটি মুখ মনে থাকে, কারণ তা দৃশ্যমান। একটি কণ্ঠস্বর মনে থাকে, কারণ তা আবেগ বহন করে। একটি আলাপচারিতা মনে থাকে, কারণ তা প্রেক্ষাপট তৈরি করে।

কিন্তু নাম? সেটি অনেক সময়ই থাকে একা, কোনো সংযোগ ছাড়াই। এই কারণেই আপনি হয়তো মনে রাখতে পারেন কোথায় দেখা হয়েছিল, কী কথা হয়েছিল, কিন্তু নামটি নয়। কারণ মস্তিষ্ক অর্থপূর্ণ তথ্যকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

Advertisement

আরও পড়ুন: ঘুমের মধ্যে লালা ঝরা কি রোগের লক্ষণ? এই সবজি বদলে দিতে পারে আপনার দৃষ্টিশক্তি ‘এনকোডিং’ ভুলটা এখানেই

স্মৃতি তৈরি হওয়ার প্রথম ধাপকে বলা হয় ‘এনকোডিং’ বা সংকেতায়ন। অর্থাৎ, কোনো অভিজ্ঞতাকে এমনভাবে রূপান্তর করা, যেন মস্তিষ্ক তা সংরক্ষণ করতে পারে। যদি এই ধাপেই ঘাটতি থাকে, তাহলে পরে সেই তথ্য মনে করা কঠিন হয়ে পড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যখন মনোযোগ বিভক্ত থাকে, তখন এই এনকোডিং দুর্বল হয়ে যায়। ফলে নামটি ঠিকমতো মস্তিষ্কে ঢোকার আগেই হারিয়ে যায়। এটি স্মৃতিভ্রংশ নয়, বরং তথ্য গ্রহণের সময়কার একটি ছোট ত্রুটি।

কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?

নাম ভুলে যাওয়া অনেক সময় তুচ্ছ মনে হলেও, এটি আসলে আমাদের দৈনন্দিন মনোযোগের অবস্থার প্রতিফলন। নোটিফিকেশন, দ্রুতগতির আলাপ, নানা চিন্তার ভিড়ে আমরা অনেক সময় পুরোপুরি উপস্থিত থাকি না। এর প্রভাব সম্পর্কেও পড়ে। কারও নাম মনে রাখা মানে তাকে গুরুত্ব দেওয়া। আর নাম ভুলে গেলে, অজান্তেই সেই সংযোগ কিছুটা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

সমাধান জটিল নয়

ভালো খবর হলো, এটি ঠিক করা কঠিন কিছু নয়। মস্তিষ্ক খুবই অভিযোজনক্ষম। ছোট কিছু অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। যেমন-

Advertisement

পরিচয়ের সময় একটু ধীর হোন নামটি একবার উচ্চারণ করে নিন কোনো পরিচিত বিষয় বা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে নিন মনে মনে নামটি কল্পনা করুন

এগুলো মুখস্থ করার কৌশল নয়, বরং মনোযোগকে ঠিক জায়গায় আনার উপায়।

নাম মনে রাখা বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষা নয়, বরং মনোযোগের প্রতিফলন। আমাদের মন যেখানে থাকে, স্মৃতিও সেখানেই গড়ে ওঠে। তাই একটু থামা, একটু মন দেওয়া, এই ছোট অভ্যাসই পারে নাম ভুলে যাওয়ার এই সাধারণ সমস্যাকে অনেকটাই কমিয়ে দিতে।

জেএস/