ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘নটবর নট আউট’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় বাংলাদেশের মোস্তফা প্রকাশের। অমিত সেনের এই ছবিতে তিনি নায়িকা হিসেবে পেয়েছিলেন সুচিত্রা সেনের নাতনি রাইমা সেনকে। ছবিটি বেশ সাড়াও ফেলেছিলো টালিগঞ্জে।
Advertisement
তবে বাংলাদেশের ছবিতে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি প্রকাশ।
২০১৪ সালে সামিয়া জামানের ‘আকাশ কত দূরে’ ছবিতে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল তাকে। সরকারি অনুদানে নির্মিত ছবিটিতে তার অভিনয় দর্শক-সমালোচকরা পছন্দও করেছিলেন। এরপর ক্যামেরার সামনে থেকে সরে যান প্রকাশ। ক্যামেরার পেছনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।মোস্তফা প্রকাশের প্রথম নায়িকা রাইমা সেন
বেশ কিছু চলচ্চিত্রের সম্পাদনা করেছেন তিনি। বিরতির দীর্ঘ এক যুগ পরে আবার বড় পর্দায় ফিরছেন এই অভিনেতা। মিজানুর রহমান লাবুর ‘আতরবিবিলেন’ ছবিতে দেখা যাবে তাকে। আগামী ১ মে ঈদের পর সারা দেশে মুক্তি পেতে যাচ্ছে এই নতুন সিনেমা।
Advertisement
সিনেমাটি নিয়ে নির্মাতা মিজানুর রহমান লাবু জানান, দীর্ঘ প্রস্তুতি ও যত্নের মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দর্শকরা ছবিটি দেখে সন্তুষ্ট হবেন এবং প্রেক্ষাগৃহে এসে উপভোগ করবেন।
প্রকাশ বলেন, ‘এক যুগ অনেকটা সময়। আবার ফিরছি, ভালো লাগছে। এই ছবির গল্প আমাকে টেনেছে বলেই রাজি হয়েছিলাম। দর্শকেরও ছবিটি ভালো লাগবে।’
‘আতরবিবিলেন’ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র আতরবিবি হিসেবে অভিনয় করেছেন ফারজানা সুমি। এছাড়াও আরও অভিনয় করছে রাশেদ মামুন অপু, আশীষ খন্দকার, এলিনা শাম্মী, সানজিদা মিলা, জয়রাজ, পারভেজ সুমন, ফরহাদ লিমন, কাজী উজ্জ্বল, সকাল ও সীমান্তসহ আরও অনেকে।‘আতরবিবিলেন’ ছবির জুটি প্রকাশ ও সুমি
ছবি মুক্তির প্রচারণার অংশ হিসেবে গত রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)-তে আয়োজন করা হয় একটি সংবাদ সম্মেলনের। সেখানে সিনেমাটির অফিসিয়াল ট্রেলার, গান এবং পোস্টার উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের শিল্পী, নির্মাতা, প্রযোজক ও সংবাদকর্মীরা।
Advertisement
ফারজানা সুমি বলেন, ‘আতরবিবি’ চরিত্রটি তার জন্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এক অভিজ্ঞতা। চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতে তাঁকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। গত বছরের রোজার মাসে কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে সিনেমাটির শুটিং শেষ করা হয় বলেও জানান তিনি।
‘আতরবিবিলেন’-এর গল্পে উঠে এসেছে এক প্রান্তিক নারীর জীবনসংগ্রাম। স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখা সত্ত্বেও বাস্তবতার কঠিন চাপে বারবার প্রতারিত হতে হয় আতরবিবিকে। সমাজের ভদ্রবেশী স্বার্থান্বেষী মানুষের বিরুদ্ধে তার লড়াই এবং প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলার গল্পই এই সিনেমার মূল উপজীব্য। এর মাধ্যমে প্রান্তিক নারীদের কঠিন বাস্তবতা ও সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে পর্দায়।
এমআই/এলআইএ