শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর তীরবর্তী এলাকায় এ বছর মরিচের বাম্পার ফলন কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। ‘লাল সোনা’ নামে পরিচিত মরিচের ভালো ফলন ও বাজারদর—দুটোই চাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। কম খরচে বেশি লাভ এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে এ অঞ্চলের কৃষকের কাছে মরিচ এখন সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত মরিচ পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ফলে কৃষকের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। এ বছর স্থানীয় জাত ছাড়াও বেড গোল্ড, বিজলি প্লাস ও বালিজুরি জাতের মরিচ চাষ হয়েছে।
Advertisement
এ অঞ্চলে উৎপাদিত মসলা জাতীয় ফসল মরিচের কদর ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। নালিতাবাড়ীর মরিচ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কম খরচ ও পরিশ্রমে বেশি লাভ পাওয়ায় কৃষক ক্রমেই মরিচ চাষে ঝুঁকছেন। চলতি মৌসুমে শুকনো মরিচের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে মরিচপুরান ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ হয়। এ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোন্নগর, ফকিরপাড়া, বেনীরগোপ ও মৌলভীপাড়া এলাকায় মরিচ চাষির সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া যোগানিয়া, কলসপাড়, নয়াবিল, নন্নী, পোড়াগাঁও ও রাজনগরসহ প্রায় সব ইউনিয়নেই কমবেশি মরিচ চাষ হচ্ছে। পারিবারিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব মরিচ বিক্রি করে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
আরও পড়ুনপেঁয়াজ চাষ করে লোকসানে মেহেরপুরের চাষিরাস্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় মরিচের ব্যাপক উৎপাদনের কারণেই ‘মরিচপুরান’ নামে একটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে।
Advertisement
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৭৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা এরই মধ্যে অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে অনেক ক্ষেতেই মরিচ পাকতে শুরু করেছে। কৃষক পাকা মরিচ সংগ্রহ করে শুকিয়ে নিচ্ছেন। চরাঞ্চল ও বাড়ির আঙিনায় মরিচ শুকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ১০০ টাকা এবং শুকনো মরিচ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মরিচ চাষিরা জানান, কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় প্রতি বছরই এ অঞ্চলে মরিচ চাষের পরিমাণ বাড়ছে। প্রতি একর জমিতে সর্বনিম্ন ৮০০ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ কেজি পর্যন্ত মরিচ উৎপাদন হয়।
এলাকার কৃষক মো. মুনছুর আলী মীর ও মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে মরিচ চাষে ভালো ফলন ও বেশি লাভ পাওয়া সম্ভব।’ অন্যদিকে কৃষক সোহানুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ফলন কিছুটা কম হলেও বাজারদর সন্তোষজনক।
আরও পড়ুনপিরোজপুরে সূর্যমুখী চাষে সম্ভাবনা, বাজারমূল্য ২০ কোটিজেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সাখওয়াত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘মরিচ চাষিদের নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই দমন, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি ও পরিচর্যার বিষয়ে কৃষককে সচেতন করা হচ্ছে।
Advertisement
এমএনআইএম/এসইউ