গরম বাড়লেই সবচেয়ে আগে যেটা মাথায় আসে, তা হলো একটি ভালো এসি। কিন্তু বাজারে গিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান ইনভার্টার এসি নেবেন, নাকি কনভার্টিবল এসি? দু’ধরনের প্রযুক্তিই আধুনিক এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে তৈরি, তবে তাদের কাজের ধরন ও ব্যবহারিক সুবিধা আলাদা। তাই নিজের প্রয়োজন বুঝে বেছে নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
Advertisement
ইনভার্টার এসির মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী নিজে থেকেই কুলিং নিয়ন্ত্রণ করে। কমপ্রেসর একেবারে বন্ধ-চালু না হয়ে ধীরে ধীরে গতি বাড়ায় বা কমায়। ফলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয় এবং নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখতে পারে দীর্ঘ সময়। এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক কম হয় এবং শব্দও কম শোনা যায়। যারা রাতে নিরবচ্ছিন্ন আরামদায়ক ঠান্ডা চান, বিশেষ করে বেডরুমের জন্য, তাদের জন্য ইনভার্টার এসি বেশ কার্যকর।
আরও পড়ুনবাড়িতে স্প্লিট এসি পরিষ্কার করবেন যেভাবেগরমে এসি ঘামলে সতর্ক হওয়া জরুরিঅন্যদিকে, কনভার্টিবল এসি ব্যবহারকারীর হাতে বেশি নিয়ন্ত্রণ দেয়। এতে বিভিন্ন কুলিং মোড থাকে, যার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী টননেজ বা কুলিং ক্ষমতা বাড়ানো বা কমানো যায়। ধরুন, ঘরে অতিথি বেশি তখন বেশি কুলিং মোড ব্যবহার করা যাবে। আবার ঘরে মানুষ কম থাকলে কম পাওয়ারে চালিয়ে বিদ্যুৎ বাঁচানো সম্ভব। অর্থাৎ এটি এমন একটি অপশন, যেখানে ব্যবহারকারী পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেই সেটিং ঠিক করতে পারেন।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দিক থেকে দেখলে, দুই ধরনের এসিই ভালো পারফর্ম করে। তবে পার্থক্যটা হলো ইনভার্টার এসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়ার অ্যাডজাস্ট করে, আর কনভার্টিবল এসিতে সেটি ম্যানুয়ালি করতে হয়। তাই যারা ঝামেলা কম চান, তাদের জন্য ইনভার্টার সহজ সমাধান হতে পারে।
Advertisement
ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। যদি আপনার ঘর এমন হয় যেখানে দীর্ঘ সময় একই পরিবেশে ঠান্ডা রাখতে হয়, তাহলে ইনভার্টার এসি উপযোগী। আর যদি ঘরের ব্যবহার পরিবর্তনশীল হয় যেমন ড্রয়িং রুম বা হল তাহলে কনভার্টিবল এসি বেশি সুবিধা দেবে।
কেএসকে