সাহিত্য

বিশ্বকবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে পুরস্কার প্রদান ও সেমিনার

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সেমিনার, রবীন্দ্র পুরস্কার ২০২৬ প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১১ মে বিকেল ৩টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

Advertisement

বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। ‘রবীন্দ্রনাথের কথাসাহিত্য’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক প্রশান্ত মৃধা। আলোচনায় অংশ নেন কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস ও প্রাবন্ধিক রায়হান রাইন।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের বিচিত্র-বিপুল সৃষ্টিজগত আমাদের বিস্মিত করে, বিশ্লেষণের পরিসরও তৈরি করে। আমাদের সমকালে অন্ধ রবীন্দ্র-ভক্তি ও রবীন্দ্রবিরোধিতার যে প্রাবল্য দেখা যায়, উভয়ই সাহিত্যবিচারের জন্য ক্ষতিকর। আমরা আশা করি, আজকের সেমিনারের মতো নানা আলোচনা-পর্যালোচনায় রবীন্দ্রনাথকে সাম্প্রতিকতম জ্ঞানকাণ্ডের আলোকে মুক্ত দৃষ্টিতে অবলোকন ও আবিষ্কারের পথরেখা খুঁজে পাবো।’

আরও পড়ুনরবীন্দ্র পুরস্কার পাচ্ছেন নৃপেন্দ্রলাল দাশ ও বুলবুল ইসলাম 

প্রশান্ত মৃধা বলেন, ‘যে কথাসাহিত্যিকের লেখা দ্বিতীয়বার ফিরে পড়া যায়, পড়তে হয় কিংবা পড়ার প্রয়োজন পড়ে, অনেকেই তাঁকে বড় লেখক মনে করেন। কিন্তু যাঁর গোটা পঞ্চাশেক গল্প ও অন্তত পাঁচটি উপন্যাস প্রতিবার পড়ার সময়ে বাক্যেরও অর্থান্তর ঘটে, নতুন মনে হয়, তিনি মহৎ কথাসাহিত্যিক!’

Advertisement

অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসাহিত্যের গবেষণায় অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ এবং রবীন্দ্রসংগীত-চর্চায় শিল্পী বুলবুল ইসলামকে ‘রবীন্দ্র পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকের হাতে পুষ্পস্তবক, সনদ, সম্মাননা-স্মারক ও পুরস্কারের অর্থমূল্য তুলে দেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ও মহাপরিচালক।

রবীন্দ্র-পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক ও শিল্পী বলেন, ‘বাংলা একাডেমির রবীন্দ্র পুরস্কার-প্রাপ্তি জীবনের অনন্য অর্জন। রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করে তাঁকে অন্বেষণ করে চলেছি; এ অন্বেষণের শেষ নেই কোনো, আছে আনন্দধারায় অনন্ত অবগাহন।’

আরও পড়ুনকবিতার রঙে নতুন বছরকে বরণ করলো স্বরকল্পন আবৃত্তিচক্র 

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের কথাসাহিত্য সৃষ্টির এত বছর পেরিয়ে আজও সমান প্রাসঙ্গিক। কথাসাহিত্যে নিজস্ব রূপরীতি অন্বেষণ ও আবিষ্কারের পাশাপাশি জনমানুষের জীবনকে সার্থকভাবে ধারণ করতে পেরেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।’

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী লাইসা আহমদ লিসা এবং ফারহিন খান জয়িতা। রবীন্দ্র কবিতার আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী নাসিম আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মাহবুবা রহমান।

Advertisement

এসইউ