২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব না হয়ে, দেশের অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের (Structural Transformation) রূপরেখা হওয়া উচিত- এমন মতামত ব্যক্ত করছেন দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা। এই মতের সঙ্গে আমারও সহমত রয়েছে। আমিও মনে করি, বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ- বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভের ওপর চাপ এবং রাজস্ব আহরণের ঘাটতি মোকাবিলার জন্য একটি কৌশলগত ও সংস্কারমুখী বাজেটের প্রয়োজন। কেননা ২০২৫-২৬ সালের বাজেটকে একটি কল্যাণভিত্তিক ও টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনের অন্যতম রূপরেখা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু লক্ষ্য ঘোষণা নয় বরং বাস্তবায়নের শক্তিশালী কাঠামো থাকলেই এই বাজেট অর্থনীতির সত্যিকারের রূপান্তর ঘটাতে সক্ষম হবে। আমি এই লেখায় কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য বাজেটে যেসব বিষয় ফোকাস করা জরুরি তার চিত্র তুলে ধরছি :
Advertisement
নবায়নযোগ্য জ্বালানি : সৌরবিদ্যুৎ, রুফটপ সোলার ও গ্রিড আধুনিকায়নে স্পষ্ট বরাদ্দ ও নীতিসহায়তা প্রয়োজন, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
উচ্চপ্রযুক্তির শিল্প : টেক্সটাইলের বাইরে ফার্মাসিউটিক্যালস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক্স এবং আইটি-সক্ষম পরিষেবাগুলোতে কর ও শুল্ক সুবিধা বাড়িয়ে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হবে।
রপ্তানি প্রণোদনা : কেবল তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভর না করে, নতুন ও বৈচিত্র্যময় পণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনা দেওয়া।
Advertisement
করজাল বৃদ্ধি : কর ফাঁকি রোধে ডিজিটাল নজরদারি বৃদ্ধি এবং কালো টাকা ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।
ন্যায়ভিত্তিক কর কাঠামো : সীমিত সংখ্যক করদাতার ওপর চাপ না বাড়িয়ে, বরং করদাতার সংখ্যা বাড়াতে এনবিআর-এর দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
৩. কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদকর্মসংস্থান-ভিত্তিক বিনিয়োগ: যে বিনিয়োগ বা প্রকল্প বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করবে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
দক্ষতা বৃদ্ধি : ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণের ব্যবস্থা এবং স্টার্টআপদের জন্য ভেনচার ক্যাপিটাল সুবিধা রাখা।
Advertisement
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা : স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় অংশ (৬৭%) যেহেতু ব্যক্তি নিজের পকেট থেকে দেয়, তাই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করে এই পকেট খরচ কমানো প্রয়োজন।
৫. টেকসই ঋণের ব্যবস্থাপনামেগা প্রকল্পে সতর্কতা : বৈদেশিক ঋণের চাপ বাড়ায়, মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুত করা এবং উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।
উল্লিখিত বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করলে এসবের উপযোগিতা উপলব্ধির বাস্তবতা অনুধান কঠিন নয়। আসলে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট প্রতিবছরই বিপুল আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। সরকার কত টাকা আয় করবে, কোথায় কত ব্যয় হবে, কর বাড়বে নাকি কমবেÑ এসব নিয়েই সাধারণত আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকে। অথচ একটি জাতীয় বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাবপত্র নয়; এটি হওয়া উচিত রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং ভবিষ্যৎ রূপান্তরের রূপরেখা। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, কর্মসংস্থান সংকট ও বৈষম্য বৃদ্ধির এই সময়ে বাংলাদেশের বাজেটকে আরও বড় দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে হবে। প্রয়োজন এমন একটি বাজেট, যা অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করবে।
জাতীয় বাজেটকে শুধু আয়-ব্যয়ের পরিসংখ্যান হিসেবে না দেখে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের মহাপরিকল্পনা হিসেবে গড়ে তোলা। যে বাজেট মানুষকে স্বস্তি দেবে, উৎপাদন বাড়াবে, বৈষম্য কমাবে, সুশাসন নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী অর্থনীতির ভিত নির্মাণ করবে। তাহলেই বাজেট সত্যিকার অর্থে জনকল্যাণের দলিল হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশ গত এক দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক সূচকে অগ্রগতি এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশ মধ্যম আয়ের পথে এগিয়েছে। কিন্তু এই অগ্রগতির ভেতরে বেশ কিছু দুর্বলতা ক্রমেই প্রকট হয়েছে। অর্থনীতি এখনও অতিমাত্রায় আমদানি-নির্ভর, রপ্তানি কাঠামো সীমিত, কর-জিডিপি অনুপাত অত্যন্ত কম, ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাব, বেকারত্ব ও আংশিক বেকারত্ব বাড়ছে এবং মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে চাপে ফেলেছে। ফলে শুধু বড় আকারের বাজেট দিলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না; বরং বাজেটের গুণগত পরিবর্তন জরুরি।
এই ক্ষেত্রে প্রথমত, বাজেটকে উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে ভোগনির্ভর প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু টেকসই উন্নয়নের জন্য শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ অপরিহার্য। বাজেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য সহজ ঋণ, প্রযুক্তি সহায়তা ও কর-সুবিধা বাড়াতে হবে। কারণ কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা এই খাতেই। শুধু বড় শিল্পগোষ্ঠীকে সুবিধা দিলে অর্থনীতি কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হবে, যা বৈষম্য আরও বাড়াবে।
একই সঙ্গে কৃষি খাতকে নতুনভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ এখনও কৃষিনির্ভর দেশ হলেও কৃষকের আয় বাড়েনি কাঙ্ক্ষিত হারে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্যের অভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে কৃষক সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। তাই কৃষিতে ভর্তুকি শুধু সার বা বিদ্যুতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কৃষিকে শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
দ্বিতীয়ত, বাজেটকে কর্মসংস্থানমুখী হতে হবে। দেশে প্রতিবছর লাখ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, কিন্তু সে তুলনায় কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ বেকার। অন্যদিকে শিল্প খাতে দক্ষ শ্রমিকের অভাব রয়েছে। এই বৈপরীত্য দূর করতে বাজেটে কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা তৈরিতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। শুধু সরকারি চাকরির আশ্বাস দিয়ে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। স্টার্টআপ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও সবুজ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে।
তৃতীয়ত, কর ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম কম। অথচ একই জনগোষ্ঠীর ওপর বারবার পরোক্ষ করের চাপ বাড়ানো হচ্ছে। ভ্যাট ও মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বাজেটে করের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। কর ফাঁকি রোধ, কালো টাকা পাচার বন্ধ এবং উচ্চ আয়ের মানুষের কর নেট সম্প্রসারণ ছাড়া রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব নয়। একই সঙ্গে কর প্রশাসনে ডিজিটাল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে।
চতুর্থত, সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে রাজনৈতিক অনুদানের পরিবর্তে মানবসম্পদ উন্নয়নের উপযোগী করতে হবে। বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বড় অংশই ভাতা ও সহায়তামূলক। কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘমেয়াদে সক্ষম করে তুলতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। স্বাস্থ্য খাতে মানুষের ব্যক্তিগত ব্যয় এখনও অত্যন্ত বেশি। ফলে অসুস্থতা অনেক পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়। বাজেটে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সম্প্রসারণ এবং ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ থাকতে হবে।
শিক্ষা খাতেও একই ধরনের সংকট রয়েছে। শুধু ভবন নির্মাণ নয়, শিক্ষার মান উন্নয়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই বাজেটে গবেষণা, বিজ্ঞান শিক্ষা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে বড় বরাদ্দ প্রয়োজন।
পঞ্চমত, বাজেটে আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার রূপরেখা থাকতে হবে। ব্যাংক ঋণখেলাপি, অর্থপাচার এবং দুর্বল তদারকি অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের কারণে জনগণের আস্থা কমছে। বাজেটে শুধু ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন নয়, বরং আর্থিক খাতের জবাবদিহিতা ও সংস্কারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। অর্থপাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে উন্নয়ন প্রকল্পে হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।
ষষ্ঠত, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে বাজেটের কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার করতে হবে। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। নদীভাঙন, লবণাক্ততা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে প্রতিবছর বিপুল ক্ষতি হচ্ছে। অথচ পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এখনও খুব সীমিত। বাজেটে সবুজ অবকাঠামো, সৌরবিদ্যুৎ, টেকসই কৃষি এবং দুর্যোগ সহনশীল নগর উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ থাকতে হবে। এটি শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকেও সুরক্ষিত করবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা। প্রায়ই দেখা যায়, বড় বড় প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে, সময় বাড়ছে, কিন্তু সুফল কম আসছে। প্রকল্প ব্যয়ে দুর্নীতি ও অপচয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বাজেটের কার্যকারিতা বাড়বে না। উন্নয়নকে কেবল দৃশ্যমান অবকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার বিষয়টিও বাজেটে গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। কেন্দ্রীয়করণের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম অনেক সময় বাস্তব চাহিদা পূরণ করতে পারে না। ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভাগুলোকে আর্থিক ক্ষমতা ও জবাবদিহিতার আওতায় এনে স্থানীয় অর্থনীতিকে সক্রিয় করতে হবে।
বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও বহুমুখী করা জরুরি। তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিনির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ওষুধ শিল্প, চামড়া, আইসিটি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও জাহাজ নির্মাণের মতো সম্ভাবনাময় খাতে বাজেট প্রণোদনা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্য ও কূটনৈতিক অর্থনীতি জোরদার করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- বাজেট প্রণয়নে জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বাজেট শুধু আমলাতান্ত্রিক দলিল হতে পারে না। ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, গবেষক, তরুণ ও নাগরিক সমাজের মতামত প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। তাহলেই বাজেট বাস্তবমুখী হবে।
মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ এখন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে উন্নয়নের সম্ভাবনা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপ ও বৈষম্যের ঝুঁকি। এই বাস্তবতায় জাতীয় বাজেটকে কেবল সংখ্যার খেলা বানালে চলবে না। কত লাখ কোটি টাকার বাজেট হলো, সেটিই বড় কথা নয়; বরং সেই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক, উৎপাদনমুখী, কর্মসংস্থানভিত্তিক ও টেকসই পথে নিতে পারছে, সেটিই মূল প্রশ্ন।
তাই জাতীয় বাজেটকে শুধু আয়-ব্যয়ের পরিসংখ্যান হিসেবে না দেখে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের মহাপরিকল্পনা হিসেবে গড়ে তোলা। যে বাজেট মানুষকে স্বস্তি দেবে, উৎপাদন বাড়াবে, বৈষম্য কমাবে, সুশাসন নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী অর্থনীতির ভিত নির্মাণ করবে। তাহলেই বাজেট সত্যিকার অর্থে জনকল্যাণের দলিল হয়ে উঠবে।
লেখক : কলাম লেখক ও শিল্প-উদ্যোক্তা।
এইচআর/এমএস