গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়ে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু ছিল রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। মুশতাকের কাছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে ছিল তার প্রতিবাদী মন। দেশের রাজনীতি, সমাজজীবন সবকিছুতেই মুশতাক আহমেদ উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন। ‘মুশতাক আহমেদ: ডিলিটেড বাই দ্য স্টেট’ শিরোনামের একটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসব ও আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথাগুলো বলেন।
Advertisement
গতকাল শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের প্রবর্তনায় বইটির প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করে গয়রহ প্রকাশনী। বইটি সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন মনজুর হোসেন।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দী হন লেখক মুশতাক আহমেদ। গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে মারা যান তিনি।
প্রকাশনা উৎসবে উপস্থিত সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি, সমাজজীবন সবকিছুতেই মুশতাক আহমেদ উজ্জ্বল থাকবেন।’ তিনি বলেন, মুশতাকের মৃত্যু তাকে ভীষণ নাড়া দিয়েছিল। যে কাস্টোডিয়াল টর্চারের (হেফাজতে নির্যাতন) শিকার তিনি হয়েছেন, সেটা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা।
Advertisement
বইটির সংকলক ও সম্পাদক মনজুর হোসেন বলেন, ‘গত দেড় বছরে আমি মূলত কিছুই করিনি, শুধু এই বই নিয়েই কাজ করেছি।’
মুশতাক আহমেদদের কখনো মুছে ফেলা যায় না উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন বলেন, শারীরিক অসুস্থতার পরও যে আদালত ছয়বার মুশতাক আহমেদের জামিন নাকচ করেছিলেন, সেই আদালত বদলাতে হবে। এই লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে।
লেখক মুশতাক আহমেদের ভাই নাফিসুর রহমান বলেন, মুশতাক বরাবরই খুব সাহসী। তিনি কুমির নিয়ে কাজ করেছেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করেছেন। সবকিছুর ঊর্ধ্বে ছিল তার প্রতিবাদী মন। দেশ অনেক সময় বিবেকি মনকে মেরে ফেলে। মন যাতে মরে না যায়, সে জন্য প্রতিবাদ প্রয়োজন। মুশতাক তার প্রতিবাদী মনকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।
মুশতাক আহমেদের বন্ধু আনিসদৌল্লা বলেন, মুশতাক আহমেদ ভ্রমণ, ফটোগ্রাফি সবকিছুতেই খুব ভালো ছিলেন। সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তার স্বপ্ন ছিল।
Advertisement
প্রকাশনা সংস্থা গয়রহের পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে মানবাধিকারকর্মী ছন্দা মাহবুব বলেন, একটা ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে তারা ছিলেন। সেই সংস্কৃতি তাদের নীরব থাকতে বাধ্য করছে। এমনকি এখনো তারা নীরবতা ভাঙতে ভয় পান। এ বই সেই নীরবতা ভেঙে সাহস দেখিয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের বিরুদ্ধে এটি এক প্রয়োজনীয় দলিল হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রুছেলী খান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত মুশতাক আহমেদের মা জেবুন্নেসা রাজ্জাক, স্ত্রী মাসিয়া আক্তার প্রমুখ।
আরএমডি