বলিউড অভিনেত্রী কৃতি স্যানন বর্তমানে তার আসন্ন সিনেমা ককটেল ২ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সিনেমাটিতে ‘অ্যালি’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তাকে শুধু অভিনয়েই নয়, শারীরিকভাবেও নিজেকে নতুনভাবে প্রস্তুত করতে হয়েছে। বিশেষ করে তার ক্যারিয়ারের প্রথম বিকিনি দৃশ্যের জন্য কৃতিকে অনুসরণ করতে হয়েছে কঠোর ফিটনেস রুটিন, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ।
Advertisement
সম্প্রতি অভিনেত্রী তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ফিটনেস কোচ ও ভারতীয় ফুটবলার করণ সাহনির একটি ভিডিও পুনরায় শেয়ার করেন। সেখানে করণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন, কীভাবে কৃতি নিজেকে ‘ককটেল ২’-এর চরিত্রের উপযোগী করে গড়ে তুলেছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, কৃতি একটি খাড়া ঢালু পথে হাঁটছেন। মজার ছলে তিনি বলেন, ‘করণ, আমি শুধু চাই তুমি এটা দেখো। চড়াই পথে হাঁটা।’
এরপর করণ ব্যাখ্যা করেন, এই সিনেমার জন্য কৃতিকে এমন এক ফিটনেস পরিকল্পনা অনুসরণ করতে হয়েছে, যা তার আগের সব কাজের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল।
Advertisement
করণের ভাষ্য অনুযায়ী, ককটেল ২-এর জন্য পরিচালক এমন একটি লুক চেয়েছিলেন, যেখানে কৃতিকে পুরো সিনেমাজুড়ে অত্যন্ত ফিট, ছিপছিপে এবং মেদহীন দেখাবে। একই সঙ্গে তার অ্যাবসও দৃশ্যমান থাকতে হবে।
আরও পড়ুন ৪১ বছরেও ফিট থাকার রহস্যে জানালেন রোনালদোর শেফতিনি বলেন, ‘এই প্রথমবার কৃতি বিকিনি দৃশ্যে অভিনয় করছিল। তাই আমাদের লক্ষ্য ছিল তাকে এমন একটি গঠন দেওয়া, যা হবে অত্যন্ত সুগঠিত এবং শক্তিশালী। আমরা সপ্তাহে ছয় দিন প্রশিক্ষণ নিয়েছি এবং পুরো সময় জুড়ে শরীরের চর্বি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি।’
উচ্চ-প্রোটিন খাদ্য এবং ইনক্লাইন ওয়াককরণের মতে, শুধু জিমে ঘাম ঝরালেই এই ফল পাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য সমান গুরুত্ব দিতে হয়েছে খাদ্যাভ্যাস, ঘুম এবং দৈনন্দিন সক্রিয় জীবনযাপনকে।
তিনি জানান, কৃতি উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতেন এবং ক্যালোরি ঘাটতির মধ্যেও পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা হতো। পাশাপাশি তার রুটিনে ছিল নিয়মিত ইনক্লাইন ওয়াক বা ঢালু পথে হাঁটা।
Advertisement
করণের ভাষায়, ‘আমরা প্রচুর পরিমাণে ইনক্লাইন ওয়ার্ক করিয়েছি। এর সঙ্গে ছিল স্ট্রেংথ ট্রেনিং এবং সারাদিন সক্রিয় থাকার অভ্যাস। পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না, তবে কৃতি অসাধারণ নিষ্ঠার সঙ্গে সবকিছু অনুসরণ করেছে।’
‘সাইজ জিরো’ নয়, ছিল ভিন্ন লক্ষ্যভিডিওর সঙ্গে দেওয়া দীর্ঘ ক্যাপশনে করণ জানান, তাদের লক্ষ্য কখনোই কৃতিকে ‘সাইজ জিরো’ বানানো ছিল না। বরং এমন একটি শরীরের গঠন তৈরি করা ছিল উদ্দেশ্য, যা একই সঙ্গে ছিপছিপে, শক্তিশালী এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল দেখাবে।
তিনি লেখেন, ‘তাকে ফিট এবং ছিপছিপে হতে হতো, কিন্তু সাইজ জিরো নয়। নির্দেশনা ছিল একদম পরিষ্কার-অত্যন্ত মেদহীন, অত্যন্ত সুগঠিত এবং এমন অ্যাবস, যা ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা যাবে।’
মুখের উজ্জ্বলতা ধরে রাখাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জকরণের মতে, শরীরের চর্বি কমানোর সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কৃতির মুখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখা। তিনি বলেন, ‘পরিচালক চেয়েছিলেন অ্যালিকে ফিট এবং প্রাণবন্ত দেখাতে। বেশি ওজন কমে গেলে মুখের উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, আবার শরীরে অতিরিক্ত মেদ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত লুক পাওয়া যায় না। এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখাই ছিল আমাদের মূল কাজ।’
কী ছিল ফিটনেস পরিকল্পনায়? শরীরের গঠন স্পষ্ট করতে নিয়মিত স্ট্রেংথ ট্রেনিং। পেশি ক্ষয় না করে ধীরে ধীরে চর্বি কমানোর জন্য ইনক্লাইন ওয়াক। মেটাবলিজম সক্রিয় রাখতে জোন-২ কার্ডিও। শরীরকে মেদহীন রাখার পাশাপাশি মুখের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সুষম পুষ্টি। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসম্মত ঘুম। পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারাবাহিক অনুশীলন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন। চরিত্রের প্রতি দায়বদ্ধতার উদাহরণকরণের মতে, এই রূপান্তর শুধু একটি দৃশ্যে ভালো দেখানোর জন্য ছিল না। বরং এটি ছিল চরিত্র, পরিচালক এবং নিজের প্রতি কৃতির দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।
তিনি লেখেন, ‘এটা শুধু সুন্দর দেখানোর বিষয় ছিল না। এটা ছিল চরিত্রকে সম্মান জানানো, পরিচালকের ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার গল্প। কৃতি তার নিষ্ঠা, ধারাবাহিকতা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অ্যালি চরিত্রকে বাস্তব করে তুলেছে।’
ফিটনেস কোচের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, ককটেল ২-এ দর্শকরা কৃতি স্যাননকে শুধু নতুন এক চরিত্রেই নয়, বরং তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠোর শারীরিক রূপান্তরের মধ্য দিয়েও দেখতে পাবেন।
জেএস/