বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়ছে দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগের অন্যতম প্রধান কারণ মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বা ‘এমএএফএলডি’। আক্রান্ত রোগীদের এই সমস্যা থেকে বাঁচাতে লক্ষ্যভিত্তিক (টার্গেটেড) চিকিৎসা ও জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের শীর্ষ স্থানীয় চিকিৎসকরা।
Advertisement
ফ্যাটি লিভার রোগকে ‘নীরব মহামারি’ আখ্যা দিয়ে এটিকে জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারের পর্যায়ে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) গ্লোবাল ফ্যাটি লিভার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) হেপাটোলজি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এক র্যালি ও সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।
এদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-ব্লকের প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালির উদ্বোধন করেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। পরে শহীদ ডা. মিল্টন হলে ‘টার্গেটেড থেরাপি ইন মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এমএএফএলডি)’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
Advertisement
হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলমের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল এবং প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ।
বাড়ছে সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিআয়োজকরা জানান, বর্তমানে এমএএফএলডি বিশ্বব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যানসার ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনের প্রয়োজনীয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। তাই রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্ক্রিনিং এবং সময়োপযোগী চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ফ্যাটি লিভার রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগের জন্য তিনি হেপাটোলজি বিভাগকে ধন্যবাদ জানান।
Advertisement
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম এলিন। তিনি এমএএফএলডির ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক ও জাতীয় বোঝা এবং রোগ নির্ণয়ের আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, স্থূলতা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় দেশেই এমএএফএলডির প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। যথাযথ চিকিৎসা না হলে এটি ধীরে ধীরে লিভারের প্রদাহ, ফাইব্রোসিস, সিরোসিস এবং এমনকি হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমায় (লিভার ক্যানসার) রূপ নিতে পারে।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও ওজন কমানোই ছিল এই রোগ ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি। তবে বর্তমানে গবেষকরা উপলব্ধি করেছেন যে, এই রোগটি একাধিক জৈবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এবং রোগীভেদে এর কারণ ভিন্ন হতে পারে। এই উপলব্ধিই লক্ষ্যভিত্তিক বা টার্গেটেড চিকিৎসা পদ্ধতির বিকাশকে ত্বরান্বিত করেছে।
রোগের অন্তর্নিহিত বিপাকীয় ও আণবিক কারণগুলো বুঝে রোগীভিত্তিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা প্রদান করা গেলে লিভার রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে সেমিনারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
এসইউজে/এসএনআর