ইনস্যুরেন্স পলিসির নথিপত্র জালিয়াতি করে ব্যাংক থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা) আত্মসাতের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে এক ভারতীয় অর্থলগ্নিকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই ব্যবসায়ীর নাম মহেন্দর মাখিজানি (৪৪)। গ্রিন কার্ডধারী এই ভারতীয় নাগরিককে গত বুধবার (১০ জুন) সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার নিউপোর্ট বিচে অবস্থিত তার বিলাসবহুল প্রাসাদ থেকে গ্রেফতার করে মার্কিন পুলিশ।
Advertisement
তার বিরুদ্ধে শুধু ব্যাংক জালিয়াতিই নয়, বরং মাদক ও সেক্স পার্টির ফাঁদ পেতে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ব্ল্যাকমেইল করা, সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী দিয়ে বিলাসবহুল হোটেল ও রেস্তোরাঁ দখল করাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আদালতে দোষী প্রমাণিত হলে মাখিজানির সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
যেভাবে চলত জালিয়াতি ও ব্ল্যাকমেইলক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস অ্যাটর্নি বিলাল এসায়লি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘করোনা ডেল মার’-এর বাসিন্দা ও ভারতীয় নাগরিক মহেন্দর মাখিজানিকে ব্যাংক থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা ফেডারেল ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন ‘সেক্স ট্যুরিজম’ কী, জাপানে এটি বাড়ছে কেন?ইউএস ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, মাখিজানি ‘ক্যান্টর গ্রুপ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভুক্তভোগী ব্যাংকটির ঋণ দেওয়ার চুক্তি ছিল। চুক্তি অনুযায়ী, রিয়েল এস্টেট বা আবাসন খাতের ঋণের বিপরীতে ব্যাংকটি ক্যান্টর গ্রুপকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার অগ্রিম প্রদান করে।
Advertisement
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫ সালের মধ্যে মাখিজানি ইনস্যুরেন্স পলিসির ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে ব্যাংকের কাছে জমা দেন, যাতে মনে হয় ঋণের বিপরীতে রাখা সম্পত্তিগুলোর ওপর তার প্রতিষ্ঠানেরই প্রধান অধিকার রয়েছে। এরপর ব্যাংকের প্রতিনিধিরা কোনো নথিপত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে মাখিজানি একাধিক টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করেন।
আদালতের নথিতে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মাখিজানি নিয়মিত মাদক ও সেক্স পার্টির আয়োজন করতেন, যেখানে ওই ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অংশ নিতেন। পরবর্তীতে সেসব পার্টিতে ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক ঘটনার ভিডিও ও তথ্য ব্যবহার করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্ল্যাকমেইল করতেন মাখিজানি, যাতে পুরো জালিয়াতির বিষয়টি গোপন থাকে।
আরও পড়ুন যৌন মিলনে ক্রমাগত অস্বীকৃতি ‘নিষ্ঠুরতা’, হতে পারে বিয়ে বিচ্ছেদের কারণকর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মুখ বন্ধ রাখতে তিনি প্রাণনাশের হুমকিও দিতেন। আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে, মাখিজানি তার অধীনস্থদের হুমকি দিয়ে বলতেন, ‘তোমাদের মেরে ফেলব, পরিবারকে রাস্তায় নামিয়ে দেব এবং বাচ্চাদের অনাথ আশ্রমে পাঠাব।’
১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার জরিমানাআইআরএসের লস অ্যাঞ্জেলেস ফিল্ড অফিসের ভারপ্রাপ্ত বিশেষ এজেন্ট ড্যারেন লিয়ান বলেন, আমাদের বিশেষ এজেন্টরা একাধিক ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট ও লেয়ার্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে অর্থ পাচারের পথ অনুসরণ করে এই জালিয়াতি ধরেছেন। ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য যারা নথিপত্র জালিয়াতি করে আর্থিক ব্যবস্থার অপব্যবহার করে, তাদের সত্য সবার সামনে আনা হবে।
Advertisement
নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাখিজানি কেবল ব্যাংক জালিয়াতিই করেননি, বরং ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে সহিংসতা ও সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করতেন। সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অভিজাত এলাকায় সশস্ত্র লোক পাঠিয়ে হোটেল ও রেস্তোরাঁ দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
লাগুনা বিচের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোনারকারের সঙ্গে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার একটি মামলায় গত মাসে একজন সালিশকারী রায় দিয়েছেন যে, মাখিজানিকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) দিতে হবে। ওই মামলায়ও মাখিজানির বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
সূত্র: এনডিটিভিকেএএ/