বাংলা ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী জেমস আবেগঘন কণ্ঠে স্মরণ করলেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও ‘সারগাম’ স্টুডিওর কর্ণধার ফারুক কবির বাদলকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জেমস বলেন, বাদলের মৃত্যুতে তিনি শুধু একজন বন্ধু নয়, পরিবারের একজন সদস্যকে হারিয়েছেন।
Advertisement
গত ২ মে খিলক্ষেতের নিজ বাসা থেকে ফারুক কবির বাদলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যু সংগীতাঙ্গনে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। নব্বইয়ের দশকের বাংলা গানের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই সংগীত প্রযোজকের সঙ্গে জেমসের সম্পর্ক ছিল কয়েক দশকের।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জেমস বলেন, ‘হিট গান, ব্যবসা- এসবের কথা মনে আসে না। বাদল ভাইয়ের কথা ভাবলেই মনে পড়ে আড্ডা, গল্প, রাগ-অভিমান আর একসঙ্গে কাটানো সময়। তিনি শুধু আমার বন্ধু ছিলেন না, পরিবারের একজন ছিলেন।’
১৯৮৯ সালে সারগাম স্টুডিও থেকে প্রকাশিত হয় জেমসের প্রথম একক অ্যালবাম ‘অনন্যা’। এরপর ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত জেল থেকে বলছি অ্যালবামও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এই দুই অ্যালবামের মাধ্যমে জেমস যেমন প্রতিষ্ঠা পান, তেমনি সারগামও হয়ে ওঠে বাংলা গানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
Advertisement
দীর্ঘ ২৭ বছর প্রবাসে কাটিয়ে কয়েক বছর আগে দেশে ফিরেছিলেন বাদল। তবে খুব সীমিত পরিসরে জীবনযাপন করছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে গীতিকার বাপ্পি খানের মাধ্যমে বহু বছর পর আবার যোগাযোগ হয় জেমস ও বাদলের।ফারুক কবির বাদল
সেই স্মৃতি তুলে ধরে জেমস বলেন, ‘দুই যুগের বেশি সময় বাদল ভাইয়ের কোনো খোঁজ ছিল না। হঠাৎ তার সঙ্গে কথা বলতে পেরে খুব ভালো লেগেছিল। মনে হয়েছিল আমরা যেন আবার আগের দিনগুলোতে ফিরে গেছি।’
বাদলের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে স্তব্ধ হয়ে যান জেমস। তার ভাষায়, ‘শুধু আমি নই, পুরো সংগীত ইন্ডাস্ট্রি একজন বাদলকে হারিয়েছে। বাংলা সংগীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে তিনি জড়িয়ে ছিলেন।’
বন্ধুর জন্য প্রার্থনা করে জেমস বলেন, ‘বাদল ভাই পরপারে ভালো থাকুক।’
Advertisement
এলআইএ