২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সামগ্রিকভাবে ব্যবসায়ী মহলের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে, বিশেষ করে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পখাতের জন্য। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বাজেটের বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ শিল্পখাতকে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ড রুবানা হক।
Advertisement
রুবানা হক মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানান বিজিএমইর সাবেক সভাপতি।
রুবানা জানান, রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ প্রণোদনার ওপর কর ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, ১ শতাংশ উৎসে কর বহাল রাখা, বন্ড সুবিধাভোগীদের জন্য ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার এবং কাঁচামাল আমদানিতে করের বোঝা হ্রাস—এসব পদক্ষেপ শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নগদ প্রবাহের চাপ কমাতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর প্রতিফলন এতে দেখা যায়।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) ও নারী উদ্যোক্তাদের প্রতি বাজেটের দৃষ্টিভঙ্গিও প্রশংসার দাবি রাখে। করমুক্ত লেনদেনের সীমা তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও, উদ্যোক্তাবান্ধব নীতির দিকে এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতির বহুমুখীকরণে উদ্যোক্তাদের ভূমিকার প্রতি সরকারের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বারোপ এর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।
Advertisement
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রণোদনাগুলোও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সৌরশক্তি ব্যবহারে কর ও ভ্যাট সুবিধার মাধ্যমে সরকার শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তার প্রতি ইতিবাচক অঙ্গীকার প্রদর্শন করেছে বলে মনে করেন তিনি।
রুবানা বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে ব্যবসা সহজীকরণ সংক্রান্ত উদ্যোগগুলো—যেমন দ্রুত কোম্পানি নিবন্ধন, একক জানালা (সিঙ্গেল উইন্ডো) ব্যবস্থার মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি সংস্থার সাড়া না পেলে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের বিধান। এগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগের পথে বিদ্যমান অনেক প্রশাসনিক বাধা দূর হতে পারে।
তবে বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষণার ওপর নয়, বাস্তবায়নের ওপর। বাংলাদেশে প্রায়ই ভালো নীতি প্রণয়ন করা হয়, কিন্তু চ্যালেঞ্জ থাকে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে। ব্যবসায়ীরা বাজেটকে মূল্যায়ন করবেন এর প্রতিশ্রুতিগুলো কত দ্রুত এবং কত দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবে রূপ পায় তার ভিত্তিতে, জানান এ উদ্যোক্তা।
তিনি মনে করেন, সামগ্রিকভাবে এটি একটি ব্যবসাবান্ধব বাজেট, যা বিনিয়োগ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও শিল্পোন্নয়নকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনিক কাঠামো সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কতটা সক্ষমতা ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করতে পারেI
Advertisement
আইএইচও/এএসএ