বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য যে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট দিয়েছে তা সার্বিকভাবে ভোক্তা ও বিনিয়োগবান্ধব বলে মন্তব্য করেছেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট-পরবর্তী এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘সরকার এবারের বাজেটে যেসব প্রস্তাব করেছে, তা সার্বিকভাবে অত্যন্ত ইতিবাচক। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে, যা একটি জাতির টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’
বাজেটে কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সার, কীটনাশক ও বালাইনাশক উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে পোলট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাতে কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যা এ খাতগুলোর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে গবেষণা, আধুনিক যান্ত্রিকীকরণ ও কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়নে আরও বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল।
Advertisement
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, বাজেট ঘোষণার সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই ধারণা তৈরি হয় যে সব পণ্যের দাম বাড়বে। তবে এবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাসের প্রবণতাই বেশি দেখা গেছে, যা ইতিবাচক এবং ভোক্তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক। বর্তমানে মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর ৫, ২ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব অত্যন্ত সময়োপযোগী। এর ফলে পণ্যের দাম কমে সরাসরি ভোক্তারা উপকৃত হবেন।
আরও পড়ুন ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট: অর্থ আসবে কোথা থেকে, খরচ হবে কোথায়?সব ধরনের মসলার ওপর আরোপিত রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার এবং শিশুখাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানোর প্রস্তাবও ইতিবাচক উদ্যোগ বলে মনে করেন তিনি।
আহসান খান চৌধুরী বলেন, এসি, ফ্রিজ এবং দেশীয়ভাবে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ভোক্তাদের উপকারে আসবে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হবে।
তিনি জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি আমদানিতে সরকারের বিপুল ব্যয় হয়। এ প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকারের সহায়ক পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Advertisement
করজাল সম্প্রসারণের লক্ষ্যে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর শূন্য দশমিক দুই শতাংশ অগ্রিম কর আরোপের প্রস্তাবও ইতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বেশকিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশে আনা হয়েছে। যদিও দীর্ঘমেয়াদে এটি আরও কমানোর সুযোগ রয়েছে। রপ্তানি আয়ের নগদ প্রণোদনার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ এবং শিল্প স্থাপনে বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব বিনিয়োগ উৎসাহিত করবে।
বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি দেশের লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।
আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘সার্বিকভাবে, এবারের বাজেটকে আমরা ভোক্তা, শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট হিসেবে দেখছি এবং এ বাজেটকে স্বাগত জানাই।’
আইএইচও/একিউএফ