অর্থনীতি

‘একটি সম্ভাবনাময় ও কাঠামোগতভাবে উন্নয়নমুখী বাজেট’

২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো—এটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে একীভূত কাঠামোর মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করার চেষ্টা। তবে বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisement

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটটি মূলত একটি ‌‘দিকনির্দেশনামূলকভাবে ইতিবাচক কিন্তু বাস্তবায়ননির্ভর’ বাজেট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এই বাজেটের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো—এটি একসঙ্গে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনতে চেয়েছে সরকার।

Advertisement

মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ২০৩০–৩১ সালের মধ্যে ৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য, পাশাপাশি ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য—এসবই বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের বাস্তব স্বীকৃতি দেয়। বিশেষ করে টাকার অবমূল্যায়ন, আমদানি নির্ভরতা এবং জ্বালানি ও সারসহ বৈশ্বিক মূল্যচাপকে বাজেটে স্বীকার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ, বলে মনে করেন।

রিয়াজ তার বিশ্লেষণে বলেন, কেবল সমস্যা চিহ্নিত করাই যথেষ্ট নয়—মূল চ্যালেঞ্জ হলো নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা। এই দিক থেকে বাজেটে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বৃদ্ধির যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা ইতিবাচক। যেমন— বাংলা বিজ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম,  এফডিআই হিট ম্যাপ, নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইপি জেড  সম্প্রসারণ—এসব উদ্যোগ বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার একটি কাঠামোগত চেষ্টা নির্দেশ করে। যদি এগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে এটি বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

তদুপরি, ৬০ হাজার কোটি টাকার স্টিমুলাস প্যাকেজটি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর একটি বড় উদ্যোগ। কৃষি, এসএমই, রপ্তানি খাত ও শিল্প পুনরায় চালু করার জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে—যা অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার মধ্যে এই ঋণ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তব খাতে পৌঁছাবে। দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা এই প্যাকেজের কার্যকারিতাকে সীমিত করতে পারে, বলে মনে করেন রিয়াজ।

ব্যাংকিং খাত সংস্কার নিয়ে বাজেটে যে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবতা হলো—উচ্চ খেলাপি ঋণ, দুর্বল মূলধন কাঠামো এবং শাসন ব্যবস্থার ঘাটতি এখনো বড় ঝুঁকি। শুধুমাত্র পুনঃমূলধনীকরণ বা নীতিগত ঘোষণা যথেষ্ট নয়; শক্তিশালী তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি, জানান এ অর্থনীতিবিদ।

Advertisement

রিয়াজ বলেন, শ্রম বাজার ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বাজেটে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেমন দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, কর্মসংস্থান এক্সচেঞ্জ, নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ পরিবহন ও আবাসন, এবং সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ—এসব অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এগুলোর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন এবং মাঠপর্যায়ের সমন্বয়ের ওপর।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু এখানেও লক্ষ্যভিত্তিক বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে এই বাজেট একটি সম্ভাবনাময় ও কাঠামোগতভাবে উন্নয়নমুখী ।

সবশেষে রিয়াজ বলেন, বাজেটে শক্তিশালী লক্ষ্য ও কর্মসূচি থাকলেও এর সফলতা নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, স্বচ্ছভাবে স্টিমুলাস বিতরণ, বাজার পর্যবেক্ষণ এবং জবাবদিহিমূলক বাস্তবায়নের ওপর।

আইএইচও/এমআইএইচএস