খেলাধুলা

‘ক্রিকেট বিশ্ব এখন আমাদের পেস আক্রমণ নিয়ে কথা বলছে, এটা বড় অর্জন’

কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের মাটিতে ম্যাচ মানেই ধরে নেওয়া হতো স্পিন সহায়ক উইকেট। এক পেসার নিয়েও ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে টাইগাররা। সেই সময় অতীত হয়েছে। এখন বাংলাদেশ ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে স্পোর্টিং উইকেট বানায়। সেখানে পেসাররা তুলনামূলকভাবে সুবিধা বেশি পায়। শুধু তাই নয় সেই উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে পেস দিয়েই রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়ে সিরিজও জেতে।

Advertisement

সেই পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়, এরপর ঘরের মাঠে আবার ওদের হোয়াইটওয়াশ টেস্টে, ওয়ানডেতে টানা ৪ সিরিজ জয়। সবখানেই বড় অবদান পেসারদের। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই সিরিজে সেরা হয়েছেন নাহিদ রানা। অজিদের বিপক্ষেও প্রথম ম্যাচে তিনিই ধ্বংসলীলা চালিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের ম্যাচে যেটা করেছেন তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। গত কয়েক বছর ধরেই বিশ্ব ক্রিকেটের নজর কাড়ছিল বাংলাদেশের পেসাররা।

এখন আর নজর নয়, পুরো বিশ্বেই নাহিদ রানা, তাসকিনকদের নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। পুরো বিশ্ব দেখছে বাংলাদেশের পেসারদের উত্থান। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়াকে বৃষ্টি আইনে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো তাদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন এই ম্যাচেই ৩ উইকেট নেওয়া তাসকিন আহমেদ। তার কাছে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ে আলোচনা হওয়াটাও অর্জন।

তাসকিন বলেন, ‘এটা দারুণ অনুভূতি। আমাদের পেস বোলিং ইউনিটের সবাই ভালো করছে। গত ম্যাচে মিড-অফে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম, বিদেশি দলগুলোর একজন এক্সপ্রেস বোলার থাকে, যাকে দেখে প্রতিপক্ষ ভয় পায়। এখন আমাদেরও এমন একজন আছে। রানার মতো একজন এক্সপ্রেস বোলার পাওয়া দল ও দেশের জন্য বড় ব্যাপার। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদেরও তার বল খেলতে অস্বস্তি হচ্ছিল। এটা খুবই আনন্দের। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা ইউনিট হিসেবে উন্নতি করছি। একসময় তো আমরা কেউ খেলব না, কিন্তু এই ফাস্ট বোলিং সংস্কৃতিটা থেকে যাবে। বিশ্ব ক্রিকেট এখন আমাদের পেস আক্রমণ নিয়ে কথা বলছে, এটা বড় অর্জন।’

Advertisement

বিশ্ব ক্রিকেটের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে কোথায় রাখবেন। এমন প্রশ্নে তাসকিনের এক লাইনের উত্তর, ‘আমার বিশ্বাস, আমরা বিশ্বের সেরা তিন পেস আক্রমণের একটি হওয়ার মতো পারফরম্যান্স করছি।’

বাংলাদেশের পেসাররা এখন যেভাবে পারফরম্যান্স করছে, তাসকিন বিশ্বাস করেন তাদের বিপক্ষে পুরোপুরি পেস সহায়ক উইকেট বানাতে প্রতিপক্ষ এখন থেকে ভাববে। তিনি বলেন, ‘এটা বলা কঠিন। কোন দেশে খেলব, কেমন উইকেট হবে, সেটা তো আগে থেকে বলা যায় না। তবে আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের দলে ভিন্নতা আছে। যেকোনো কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও আছে। সবাই সুস্থ থাকলে, ছন্দে থাকলে ভালো করা সম্ভব। তবে কিছুটা হলেও হয়তো দলগুলো সিমিং উইকেট বানানোর আগে চিন্তা করবে।’

এসকেডি/আইএইচএস/

Advertisement