অর্থনীতি

বাজেটে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে: ফাহমিদা খাতুন

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন এবং বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তবে বাজেটে ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, মাত্র চার মাসের মতো সময়ে একটি জাতীয় বাজেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ দলিল প্রণয়ন করতে পারায় অর্থমন্ত্রী ও তার দলকে সিপিডির পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, এমন এক সময়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে যখন দেশের অর্থনীতি নানা ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু প্রবৃদ্ধি নয়, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে। সরকার একদিকে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অন্যদিকে প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোও বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisement

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বাজেটের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন এবং বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লিখিত বিভিন্ন বিষয়েরও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বাজেটে সরাসরি সংস্কারের রূপরেখা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা না হলেও সরকার যে সুশাসনভিত্তিক সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহী, তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সুশাসনভিত্তিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, সংস্কার উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের করনীতি ও কর প্রশাসনের পৃথকীকরণ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, রাজস্ব ব্যবস্থার অটোমেশন, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন, আর্থিক খাতে সুশাসন জোরদার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাঠামো সহজীকরণ। এগুলো ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

তার ভাষ্য, কোনো সংস্কারই সহজ নয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা শুরুতে অজনপ্রিয় হয়ে থাকে। ফলে বাস্তবায়নের পথে নানা বাধা সৃষ্টি হয়। তবে যেহেতু এটি সরকারের প্রথম বাজেট, তাই সংস্কার কার্যক্রম শুরু করার জন্য এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

Advertisement

তিনি আরও বলেন, সংস্কার কোনো এককালীন পদক্ষেপ নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এর জন্য মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বাজেটে এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারে যেসব সংস্কার কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা। এসব নিশ্চিত করা গেলে বাজেটের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

এসএম/এমআইএইচএস