খেলাধুলা

গোটা ক্রিকেট বিশ্ব এখন বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে কথা বলছে: তাসকিন

বাংলাদেশের ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে দুই দুইবার হোয়াইটওয়াশ (প্রথমবার ৪-০, দ্বিতীয়বার ৩-০) করার রেকর্ড আছে। পাশাপাশি পাকিস্তানকেও ঘরের মাঠে ৩-০তে ‘বাংলাওয়াশ’ করার কৃতিত্ব আছে টিম বাংলাদেশের। পাশাপাশি ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাথেও ২-১ এ সিরিজ জিতেছে টাইগাররা।

Advertisement

এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও সিরিজ জেতার অধরা কৃতিত্ব দেখালো মেহেদি হাসান মিরাজের দল। ইতিহাস সাক্ষী, ২১ বছর আগে বাংলাদেশ যখন প্রথম অস্ট্রেলিয়াকে একদিনের ক্রিকেটে হারিয়েছিল, সেটাও ছিল এই জুন মাসে।

২০০৫ সালের ১৮ জুন যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে রিকি পন্টিং, ম্যাথ্যু হেইডেন, ড্যামিয়েন মার্টিন, মাইক হাসি, ব্র্যাড হগ, জেসন গিলেস্পি, গ্লেন ম্যাকগ্রার মতো বিশ্বমানের মহাপরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মোহাম্মদ আশরাফুলের উদ্ভাসিত শতকে (১০১ বলে ১০০) ৫ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

অতিকাকতালীয়ভাবে ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ আগে ওই ৫ উইকেটের ব্যবধানে অসিদের হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিল টাইগাররা।

Advertisement

অতিবড় বাংলাদেশ সমালোচকও টাইগারদের এই সিরিজ বিজয়কে কোনোভাবেই খাটো করে দেখতে পারবেন না। কারণ অসি টপ অর্ডার ক্যামেরন গ্রিন অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন, বাংলাদেশ যোগ্যতর দল হিসেবেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে এবং গ্রিন খানিক বিস্ময় নিয়েই বললেন, আসলে উইকেট ভালো ছিল। পেসাররাই এখানে বাড়তি সহায়তা পেয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের পেসাররা আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেই সাফল্য তুলে নিয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা, যত দিন গড়াচ্ছে বাংলাদেশের পেসারদের বলের ধার ততই বাড়ছে। বাংলাদেশের দ্রুতগতির বোলাররা ততই উন্নতি করছেন। প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের অস্বস্তির কারণ হচ্ছেন এবং আজকাল নাহিদ রানার বল খেলতে প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা ভয়ে কাঁপছেনও। সেটাই টাইগার ফাস্ট বোলারদের উন্নতির চিহ্ন। সেটাই ফাস্ট বোলারদের কার্যকারিতার দলিল।

বাংলাদেশ ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদও মনে করেন বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এখন অনেক সমৃদ্ধ, শক্তিশালী ও ধারালো। এবং তার অনুভব, গোটা ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড এখন বাংলাদেশের পেসারদের হিসাবের মধ্যে আনছে। তাদের নিয়ে কথা বলছে। এবং এটাই উন্নতির পরিচায়ক, মানছেন তাসকিন।

তাসকিনের সোজাসাপ্টা কথা, উইকেট খুব ভালো ছিল। এ ভালো উইকেটে আমরা ভালো খেলে অস্ট্রেলিয়ার ওপর পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করেই সিরিজ জিতলাম।

Advertisement

পেসারদের হাত ধরে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সহজ কাজ নয়। এটা সবার জানা। ইতিহাস জানাচ্ছে, ২১ বছর আগে যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের কার্ডিফে বাংলাদেশ যে একটি মাত্র ম্যাচ জিতেছিল, সেখানে জয়ের নায়ক ছিলেন ব্যাটার মোহাম্মদ আশরাফুল। তার অসাধারণ শতকে বাংলাদেশ পেয়েছিল ঐতিহাসিক সাফল্য। ২১ বছর পর এবার ঘরের মাঠে টাইগাররা অসিদের বধ করলো বোলারদের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে। এবার সেটা স্পিন বোলারদের হাত ধরে নয়। ফাস্ট বোলাররাই জিতিয়েছেন বাংলাদেশকে।

দুই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ১৩ উইকেটের (প্রথম ম্যাচে ৭ আর আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেট) পতন ঘটিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। মোস্তাফিজুর একাই নিয়েছেন ৫ উইকেট। আর তাসকিন ও নাহিদ রানার ঝুলিতে জমা পড়েছে সমান ৪টি করে উইকেট।

গত দুই ম্যাচের চালচিত্র বলে দিয়েছে, বাংলাদেশের পেসারদের খেলতেই নাভিশ্বাস উঠেছে অসিদের। তাসকিন খুব বিনয়, সৌজন্যতা ও শিষ্টাচারের সঙ্গে উচ্চারণ করলেন, আমাদের একজন পেসারের (নাহিদ রানা) বল খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডল ও লেট অর্ডার ব্যাটাররা ভয় পাচ্ছিল, সেটা দেখে অন্যরকম অনুভূতি হয়েছে।

প্রেস কনফারেন্সে প্রশ্ন উঠলো, একটা সময় আপনাকে ঘিরেই আবর্তিত ছিল বাংলাদেশের পেস বোলিং। এখন নাহিদ রানার দুর্দান্ত গতির মুখে আপনি খানিক ফিকে। এখন নাহিদ রানাই পাদপ্রদীপের আলোয়। তিনিই শিরোনামে। অনুভূতিটা কেমন?

এ প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ রানার গতি ও বোলিং কারুকাজের প্রশংসা করতে ভোলেননি তাসকিন। পাশাপাশি তার উপলব্ধি, বাংলাদেশের একজন ফাস্ট বোলারের বল খেলতে প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা ভয় পাচ্ছে। এটা শুধু সেই বোলার, মানে নাহিদ রানার একার কৃতিত্ব না; বাংলাদেশের পেসারদের ধারাবাহিক উন্নতির একটা বড় দলিল।

তাসকিনের সোজা কথা, আর অ্যাজ এ বোলিং ইউনিট হিসেবে সবাই মিলে ইমপ্রুভ করছি, এটা সবচেয়ে বড় সার্থকতা। কারণ একটা সময়ে গিয়ে তো আমরা কেউ খেলব না। তো এটাই হচ্ছে পাওয়া যে, এরকম ফাস্ট বোলিং ইউনিট হয়েছে আমাদের।

তাসকিনের প্রত্যাশা, আমরা যাতে এটাকে আরও উপরের দিকে নিয়ে যেতে পারি এবং আল্লাহ যাতে ওকে আরও সাকসেস দেন। তার শেষ কথা, গোটা ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড আমাদের ফাস্ট বোলিং গ্রুপ নিয়ে কথা বলছে। আমাদের গণনার মধ্যে আনছে। আমাদের বোলিং নিয়ে ভাবছে। এটাই আমাদের জন্য বড় পাওয়া।

এআরবি/আইএইচএস/