প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অবস্থিত ‘স্মৃতি অম্লান’ জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন।
Advertisement
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে তিনি জাদুঘর পরিদর্শন করেন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
আইএসপিআর জানায়, পরিদর্শনকালে তিনি সেখানে সংরক্ষিত মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বহস্তে লিখিত জেড ফোর্সের অপারেশনাল অর্ডার এবং ১৯৭১ সালের ২৩ ও ২৪ মার্চ ব্যবহৃত ঐতিহাসিক ১৯৬৭ মডেলের টয়োটা ক্রাউন গাড়িটি গভীর আগ্রহ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পরিদর্শন করেন।
তিনি স্বাধীনতার জন্য পরিচালিত সশস্ত্র সংগ্রামের দুর্বার সাহস, অদম্য দেশপ্রেম এবং আত্মোৎসর্গের এক অনন্য সাক্ষ্য বহনকারী এই নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে গভীর অনুভূতি প্রকাশ করেন।
Advertisement
এছাড়া, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জাদুঘরে রক্ষিত চট্টগ্রাম অঞ্চলে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল ও নিদর্শন, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযানিক কার্যক্রম এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের ইতিহাস ও সাফল্য ঘুরে দেখেন।
এসময় তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির স্বাধীন সত্তা, আত্মমর্যাদা ও অদম্য মনোবলের এক অবিনাশী মহাকাব্য।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অতুলনীয় আত্মত্যাগ, বীরত্ব, দেশপ্রেম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা চট্টগ্রাম এরিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদান ও সাফল্যের নিদর্শন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান সম্পর্কেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সম্যকভাবে অবহিত করতে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবান নিদর্শন যথাযথ সংরক্ষণ ও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
Advertisement
এসময় ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
‘স্মৃতি অম্লান’ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও চট্টগ্রাম সেনানিবাসের গৌরবদীপ্ত ইতিহাসের স্মৃতিবিজড়িত একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। জাদুঘর কমপ্লেক্সটি ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে স্থাপিত হয়, যা সম্প্রতি সংস্কার ও পরিমার্জন করে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি নতুন ভবনে পুনঃস্থাপন করা হয়।
টিটি/এমকেআর