২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র একদিন আগে কার্লো আনচেলত্তি এমন একটি উপহার পেলেন, যা যে কোন কোচের জন্য অমূল্য। সেটা হলো- নিজের খেলোয়াড়দের সম্মান, ভালোবাসা এবং আস্থা।
Advertisement
৬৭তম জন্মদিনে ব্রাজিল জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিশেষ মুহূর্ত কাটান ইতালীয় এই কোচ। ব্রাজিল দলের দীর্ঘদিনের রীতি অনুসারে খেলোয়াড়রা তার জন্য তৈরি করেন বিশেষ ‘জন্মদিনের করিডোর’। দুই সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা খেলোয়াড়দের মাঝখান দিয়ে দৌড়ে যেতে হয় যার জন্মদিন তাকে। এ সময় চলে ঠাট্টা, হাসি-আনন্দ আর হালকা ধাক্কাধাক্কি।
সাধারণত সংযত ও শান্ত স্বভাবের আনচেলত্তিকে এমন দৃশ্যে খুব কমই দেখা যায়। তবে খেলোয়াড়দের আচরণে তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধও স্পষ্ট ছিল। কোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে যেমনটা করা হয়, তার তুলনায় অনেক বেশি সতর্কতা ও কোমলতা দেখিয়েছেন তারা।
বিশ্বকাপের মতো পরিবেশে যেখানে প্রতিনিয়ত চাপ কাজ করে এবং সামান্য ভুলও সাফল্য-ব্যর্থতার ব্যবধান গড়ে দিতে পারে, সেখানে মানবিক সম্পর্কের গুরুত্ব অনেক বেশি। এমন আয়োজন খেলোয়াড় ও কোচের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে সাহায্য করে। কয়েক মুহূর্তের জন্য হারিয়ে যায় আনুষ্ঠানিকতা, পদমর্যাদা ও কঠোর নিয়মের বিভাজন। তখন প্রধান কোচ আর শুধু নির্দেশদাতা নন, তিনি দলেরই একজন সদস্য হয়ে ওঠেন।
Advertisement
খেলোয়াড়দের সঙ্গে সহজে সম্পর্ক গড়ে তোলার এই ক্ষমতা পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই আনচেলত্তির অন্যতম বড় শক্তি। ১৯৫৯ সালের ১০ জুন ইতালির রেজ্জিওলো শহরে জন্ম নেওয়া আনচেলত্তি প্রথমে একজন মিডফিল্ডার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
তবে কোচ হিসেবেই তিনি পৌঁছান অনন্য উচ্চতায়। ইউরোপের পাঁচটি প্রধান লিগ- স্পেন, ইতালি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও জার্মানিতে শিরোপা জয় করা একমাত্র কোচ তিনি। এছাড়া পাঁচবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতে গড়েছেন অনন্য রেকর্ড, যা তাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা কোচদের কাতারে স্থান দিয়েছে।
এবার তার সামনে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জ। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল জাতীয় দল ব্রাজিল তাকে দায়িত্ব দিয়েছে আবারও বিশ্বফুটবলের শীর্ষে ফিরিয়ে নেওয়ার।
রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে ব্রাজিল। দেশটির বিশ্বাস, আনচেলত্তির অভিজ্ঞতাই হতে পারে সেই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যার অভাব এতদিন ছিল।
Advertisement
মজার বিষয় হলো, এ বছর জন্মদিনটি এসেছে তার পেশাদার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। ক্লাব ফুটবলে প্রায় সবকিছু জয়ের পর এবার তিনি প্রথমবারের মতো কোনো জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন।
যে মানুষটি প্রায় সব বড় শিরোপাই জয় করেছেন, তার ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দিতে এখন বাকি কেবল ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মরক্কো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে শক্তিশালী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে তারা।
প্রথম লক্ষ্য অবশ্যই গ্রুপপর্ব পেরিয়ে যাওয়া। তবে ব্রাজিলের প্রত্যাশা তার চেয়েও অনেক বড়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে শিরোপার পথে তাদের মুখোমুখি হতে হতে পারে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী কয়েকটি দলের।
৬৭ বছর বয়সী কার্লো আনচেলত্তি যখন খেলোয়াড়দের হাসি-আনন্দের মধ্য দিয়ে জন্মদিন উদযাপন করছেন, তখন একই সঙ্গে তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিজের এবং দলের জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটির জন্য। লক্ষ্য একটাই- বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল জাতীয় দল হিসেবে ব্রাজিলের মর্যাদাকে আরও উজ্জ্বল করা।
এমএআর/আইএইচএস/