অপেক্ষার প্রহর শেষ। ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ দল নিয়ে হতে যাওয়া বিশ্বকাপ গড়িয়েছে মাঠে। উদ্বোধনী দিনের দুই খেলার ফলাফলও জেনে গেছে সবাই। জয়ের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়া। আলোচনায় মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে রেফারি উইল্টোন পেরেইরা সাম্পাইও’র দেওয়া তিন লাল কার্ডের ঘটনা। সেই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, নাকি ভুল। এই নিয়ে আলোচনা চলছেই। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার উদ্বোধনী ম্যাচে এমন দৃশ্য দেখলো বিশ্ব।
Advertisement
ব্রাজিলিয়ান রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক কথা হলেও, কেউ তার কাজে হস্তক্ষেপ করেনি। এমনটা করার সুযোগও নেই। তবে মাঠের বাইরের ব্যক্তির হস্তক্ষেপে রেফারির সিদ্ধান্তে বদলের ঘটনা আছে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে। এই কথা শুনে আপনার চোখ এখন নিশ্চিতভাবেই কপালে উঠে গেছে। প্রশ্ন জাগতে পারে- এমনটাও সম্ভব? হ্যাঁ, সত্যিই এমনটা ঘটেছে।
কুয়েত তাদের ফুটবল ইতিহাসে একবারই বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছিল, স্পেনে আয়োজিত ১৯৮২ এর আসরে। সেটাই তাদের এখন পর্যন্ত বিশ্ব আসরে খেলার প্রথম ও শেষ অভিজ্ঞতা। ওই এক আসরে অংশ নিয়েই দলটি জন্ম দেয় বিতর্কিত এক ঘটনার। দলের খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফ কেউ সেই ঘটনায় দায়ী নয়। যিনি দায়ী তিনি হলেন- দেশটির রাজপুত্র শেখ ফাহাদ আল-আহমেদ আল-জাবের আল-সাবাহ। তিনিই মূলত মাঠে নেমে রেফারিকে বাধ্য করেছিলেন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে।
চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে নিজেদের গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে ড্র করে কুয়েত। দ্বিতীয় ম্যাচে তারা সামনে পড়ে শক্তিশালী ফ্রান্সের। ম্যাচটির ভেন্যু ছিল ভ্যালাদোলিদের এস্তাদিও হোসে জোররিরায়। মাত্র ১৭ মিনিটেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় ফরাসিরা। বড় ও লজ্জাজনক পরাজয়ের শঙ্কা জাগে কুয়েতের। তবে এরপর ম্যাচে অনেকক্ষণ গোল করতে পারেনি ফ্রান্স। ৭৫ মিনিটে গোল করে কুয়েত। তাতে কমে ব্যবধান।
Advertisement
এই এক গোল মোটেও যথেষ্ট ছিল না কুয়েতের হার এড়ানোর জন্য। তবে চেষ্টা করেও প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে নিতে ব্যর্থ হয় তারা। এমন সময় আরেকটি গোল করে বসে ফ্রান্স। সেই গোলের পরই বিতর্কের জন্ম দেয় কুয়েত। দলটির খেলোয়াড়রা দাবি করেন, তাদের কানে বাঁশির শব্দ এসে পৌঁছানোয় তারা খেলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বাঁশির সেই শব্দ এসেছিল গ্যালারি থেকে। ফলে গোলটিকে বিবেচনায় নেন রেফারি।
প্রথমে গোল ধরলেও, চাপে পড়ে সেই সিদ্ধান্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী রাখতে পারেননি রেফারি। খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগ দেন দেশটির প্রিন্স শেখ ফাহাদ আল-আহমেদ আল-জাবের আল-সাবাহও। বিশেষ অতিথিদের চেয়ারে থাকা প্রিন্স মাঠে নেমে পড়েন। রেফারি মাইরোস্লাভ স্টুপারের কাছে দাবি জানান, গোল বাতিল করার। অন্যথায় খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে চলে যাবে, এমন হুমকিও আসে তার পক্ষ থেকে।
বেশ কয়েক মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর রেফারি স্টুপার তার সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন। বাতিল হয় ফ্রান্সের গোল। তবে খুব দ্রুতই ম্যাচের শেষদিকে ৮৯ মিনিটে গোল করে স্কোর ৪-১ করে ফেলে ফ্রান্স। মাঠে প্রবেশের কারণে পরে কুয়েতের প্রিন্সকে ১৪ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়।
শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে কুয়েতকে বিদায় নিতে হয় নিজেদের অভিষেক আসর থেকে। এরপর ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তারা আর কখনোই বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। ২০১৮ সালে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ফিফা দলটিকে নিষিদ্ধও করেছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে কুয়েত তৃতীয় রাউন্ডে উঠলেও ১০ ম্যাচে কোনো জয় ছাড়াই গ্রুপের শেষ স্থানে থেকে বিদায় নেয়।
Advertisement
আইএন/এমএমআর