মেক্সিকোয় একদিন আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বকাপের উদ্বোধন ও উদ্বোধনী ম্যাচ। তবে, এবার যেহেতু আয়োজক তিন দেশ, এ কারণে প্রতিটি দেশই আলাদা আলাদা করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। আজ, টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে নিজেদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কানাডা।
Advertisement
টরন্টোতে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কানাডা পর্বের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হল আজ। সহ-আয়োজক কানাডার প্রথম ম্যাচের আগে টরন্টো স্টেডিয়াম (বিএমও ফিল্ড) রঙ, আলো, সংগীত আর তারকাদের পরিবেশনায় পরিণত হয় এক উৎসবমুখর মঞ্চে।
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ ছিলেন বলিউড ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জনপ্রিয় শিল্পী নোরা ফাতেহি। তিনি বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘সির সির’ (Siir Siir) পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন। তার সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন আন্তর্জাতিক সংগীত জগতের আরও কয়েকজন পরিচিত শিল্পী।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজক দেশের মর্যাদা পাওয়া কানাডা নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার। সেই ম্যাচের আগে হাজারো দর্শকে ভরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
Advertisement
কানাডার সংস্কৃতি ও সংগীত ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই আয়োজন করা হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠান। এর মূল আকর্ষণে ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কানাডীয় সংগীতশিল্পী অ্যালানিস মরিসেট, জেসি রেয়েজ এবং মাইকেল বুবলে। তাদের পারফরম্যান্সে স্টেডিয়ামজুড়ে সৃষ্টি হয় অন্যরকম আবহ।
বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম, আলোকসজ্জা এবং বিশেষ ভিজ্যুয়াল ইফেক্টে সাজানো অনুষ্ঠানে ফুটে ওঠে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়। দেশটির বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী শিল্পীদের পরিবেশনায় উঠে আসে ঐক্য, বৈচিত্র্য এবং ফুটবলের বৈশ্বিক বন্ধনের বার্তা।
মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় টরন্টোর অনুষ্ঠানও ছিল বিশ্বকাপের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলার প্রয়াস। মাঠে খেলা শুরুর আগেই দর্শকরা উপভোগ করেন সংগীত, নৃত্য ও আলোর এক অনন্য মেলবন্ধন।
বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশের একটি কানাডা। টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভার- এই দুই শহরে অনুষ্ঠিত হবে আসরের ম্যাচগুলো। সেই উপলক্ষে টরন্টো স্টেডিয়ামকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। বিশ্বকাপের জন্য স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৭৩৬।
Advertisement
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের উচ্ছ্বাস প্রমাণ করে, ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে কানাডার আগ্রহ ও উত্তেজনা কতটা তুঙ্গে। আয়োজকরা আশা করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে টরন্টো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে।
নোরা ফাতেহির মুগ্ধতা
বিশ্বকাপ আয়োজকদের বিশেষ আমন্ত্রণে নোরা ফাতেহি মঞ্চে ওঠেন এবং তার পরিবেশনায় দর্শকরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। ‘সির সির’ গানের সঙ্গে নৃত্য ও আলো-ছায়ার অপূর্ব সমন্বয় ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। বিশ্বকাপ ২০২২-এর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নোরা এবারও প্রমাণ করলেন, বৈশ্বিক ক্রীড়া মঞ্চে তিনি অন্যতম জনপ্রিয় পারফরমার।
কানাডার প্রথম ম্যাচ, নেই অধিনায়ক ডেভিস
উদ্বোধনী উৎসবের পরই শুরু হচ্ছে কানাডার বিশ্বকাপ অভিযান। তবে স্বাগতিকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ হলো, দলের অধিনায়ক ও তারকা ডিফেন্ডার আলফোনসো ডেভিস চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না।
ডেভিসের অনুপস্থিতিতে কানাডার আক্রমণভাগের মূল ভরসা জোনাথন ডেভিড। পাশাপাশি উইঙ্গার তাজন বুকানান, ডান প্রান্তের ডিফেন্ডার আলিস্টেয়ার জনস্টন এবং মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনে’র ওপরও থাকছে বিশেষ নজর।
চমক দেখাতে প্রস্তুত বসনিয়া
বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট ইতালিকে হারিয়ে আলোচনায় আসে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। দলটির শক্তিশালী রক্ষণভাগে আছেন অভিজ্ঞ সেয়াদ কোলাসিনাচ এবং তারিক মুহারেমোভিচ।
আক্রমণে নজর থাকবে তরুণ উইঙ্গার এসমির বাজরাকতারেভিচ ও কেরিম আলাজবেগোভিচ-এর দিকে। এছাড়া দলের সবচেয়ে বড় তারকা ও অধিনায়ক এদিন জেকো এখনো বসনিয়ার আক্রমণের প্রধান অস্ত্র।
বিশ্বকাপ উৎসবের নতুন অধ্যায়
মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী আয়োজনের পর টরন্টোর এই অনুষ্ঠান বিশ্বকাপের উৎসবকে আরও বিস্তৃত করেছে। সংগীত, সংস্কৃতি এবং ফুটবলের মেলবন্ধনে কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বজুড়ে কোটি দর্শকের নজর কেড়েছে।
এবার মাঠের লড়াইয়ে স্বাগতিক কানাডা কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার অপেক্ষা। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে টরন্টোর প্রথম রাতটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে নোরা ফাতেহির ঝলমলে পরিবেশনা এবং ফুটবল উৎসবের অনন্য আবহের জন্য।
আইএইচএস/