জাতীয়

কানাডার গর্ব বিএমও ফিল্ড, বদলে গেলো বিশ্বকাপের ছোঁয়ায়

কানাডার টরন্টো শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিএমও ফিল্ড এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত স্টেডিয়াম। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে সাময়িকভাবে যার নামকরণ করা হয়েছে ‘টরন্টো স্টেডিয়াম’। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করছে কানাডার মাত্র দুটি স্টেডিয়াম। তার একটি এই বিএমও ফিল্ড।

Advertisement

২০০৭ সালে উদ্বোধন হওয়া স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়েছে টরন্টোর ঐতিহাসিক এক্সিবিশন স্টেডিয়ামের জায়গায়। বর্তমানে এটি মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব টরন্টো এফসি এবং কানাডিয়ান ফুটবল লিগের (সিএফএল) দল টরন্টো আর্গোনটসের ঘরের মাঠ। স্টেডিয়ামটির মালিক টরন্টো সিটি করপোরেশন এবং পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ম্যাপল লিফ স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট (এমএলএসই)।

বিশ্বকাপের জন্য স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৭৩৬ আসন। যদিও নিয়মিত সময়ে এর ধারণক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার। ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে অতিরিক্ত ১৭ হাজার ৭৫৬ অস্থায়ী আসন যুক্ত করা হয়েছে, যাতে ফিফার নির্ধারিত মান পূরণ করা যায়।

বিএমও ফিল্ডের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। মূলত ২০০৭ ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্যই এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টের বেশ কয়েকটি ম্যাচ এবং ফাইনালও অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই ভেন্যুতে। পরবর্তীতে ২০১৪ ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপেরও ম্যাচ আয়োজন করে স্টেডিয়ামটি।

Advertisement

শুধু আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নয়, ক্লাব ফুটবলেও স্টেডিয়ামটির রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এমএলএস কাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল এখানেই। এরপর ২০১৬ ও ২০১৭ সালের এমএলএস কাপ ফাইনালও আয়োজন করে বিএমও ফিল্ড। ২০১৭ সালে নিজেদের মাঠে সিয়াটল সাউন্ডার্সকে হারিয়ে টরন্টো এফসি ইতিহাস গড়েছিল।

বিশ্বকাপের আগে স্টেডিয়ামটি একাধিক ধাপে সংস্কার করা হয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বড় ধরনের উন্নয়নকাজের মাধ্যমে পূর্ব গ্যালারিতে নতুন আপার ডেক, দর্শক আসনের ওপর ছাদ এবং মাঠের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করা হয়। এসব সংস্কারে ব্যয় হয় প্রায় ১৫০ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার।

২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আবারও আধুনিকায়ন করা হয়েছে ভেন্যুটি। নতুন এলইডি ভিডিওবোর্ড, উন্নত সাউন্ড সিস্টেম, নতুন ডাগআউট, ছাদসংলগ্ন লাউঞ্জ এবং দর্শকসুবিধা বাড়ানোর নানা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫৭.৯ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে টরন্টো সিটি দিয়েছে ১৩২.৯ মিলিয়ন ডলার এবং এমএলএসই দিয়েছে ২৫ মিলিয়ন ডলার।

স্টেডিয়ামের মাঠও অত্যাধুনিক। শুরুতে কৃত্রিম টার্ফ ব্যবহার করা হলেও ২০১০ সালে সেটিকে প্রাকৃতিক ঘাসে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে এখানে উন্নত হাইব্রিড গ্রাস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যাতে আবহাওয়া ও অতিরিক্ত ব্যবহারের মধ্যেও মাঠের মান বজায় থাকে।

Advertisement

ফুটবলের পাশাপাশি রাগবি, কানাডিয়ান ফুটবল এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনেরও সাক্ষী এই স্টেডিয়াম। ২০১৫ প্যান-আমেরিকান গেমসের রাগবি সেভেনস ইভেন্টও অনুষ্ঠিত হয়েছিল এখানে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে টরন্টো স্টেডিয়াম মোট ছয়টি ম্যাচ আয়োজন করবে। এর মধ্যে থাকবে পাঁচটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ এবং একটি নকআউট রাউন্ডের ম্যাচ। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, ১২ জুন ২০২৬ বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে এই স্টেডিয়ামে।

বিশ্বকাপ চলাকালে ফিফার বাণিজ্যিক নীতির কারণে ‘বিএমও ফিল্ড’ নাম ব্যবহার করা হবে না। করপোরেট স্পন্সরশিপ-সম্পর্কিত নাম বাদ দিয়ে এটিকে বলা হবে ‘টরন্টো স্টেডিয়াম’, যেমনটি আগে ২০০৭ ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ও ২০১৪ নারী অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের সময় করা হয়েছিল।

একসময় শুধু টরন্টো এফসির ঘরোয়া মাঠ হিসেবে পরিচিত বিএমও ফিল্ড এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে স্টেডিয়ামটি কানাডার ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে।

বিএমও ফিল্ডে ম্যাচের সূচি

১২ জুন, কানাডা-বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, রাত ১টা (১৩ জুন)১৭ জুন, ঘানা-পানামা, ভোর ৫টা (১৮ জুন)২০ জুন, জার্মানি-আইভরি কোস্ট, রাত ২টা (২১ জুন)২৩ জুন, পানামা- ক্রোয়েশিয়া, ভোর ৫টা (২৪ জুন)২৬ জুন, সেনেগাল-ইরাক, রাত ১টা (২৭ জুন)

নকআউট পর্ব (শেষ ৩২)২ জুলাই, ম্যাচ-১২, ভোর ৫টা (৩ জুলাই)

আইএইচএস/