খেলাধুলা

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এমনিতেই ধারে ও ভারে এগিয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপে নিজেদের মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচের প্রথমার্ধে সেই প্যারাগুয়েকে নিয়ে ছেলেখেলা করলো স্বাগতিকরা। ৩-০ গোলে এগিয়ে গেলো যুক্তরাষ্ট্র। জোড়া গোল করলেন ফোলারিন বালোগুন। একটি গোল অফসাইডের অজুহাতে বাতিল না হলো বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটিট্রকের মালিক হয়ে যেতেন যুক্তরাষ্ট্রের এই ফুটবলার।

Advertisement

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় মিনিটেই পিএসজির অনুকরণে কিক-অফ থেকে লম্বা বল খেলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে তারা। তৃতীয় মিনিটে ওয়েস্টন ম্যাককেনির পাস থেকে ফোলারিন বালোগুন সুযোগ পেলেও তার শট সহজেই সামলে নেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিল।

সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ম্যাককেনির দারুণ আক্রমণাত্মক মুভে বল যায় ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের কাছে। মিলানের এই তারকা দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ম্যাককেনিকে বল ফেরত দেন। ম্যাককেনির বাড়ানো বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বিপত্তি ঘটান প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার ডামিয়ান বোবাদিয়া। নিজের জালেই বল পাঠিয়ে দেন তিনি। সেই আত্মঘাতি গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

গোল হজমের পর প্যারাগুয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। হুলিও এনসিসো ১৪ মিনিটে দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা করেন, তবে বল অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণের ধার বজায় রাখে। ১৬ মিনিটে বালোগুন ও সের্হিনিও ডেস্টের সমন্বিত আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোলের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে গুসতাভো গোমেজ বিপদ সামাল দেন।

Advertisement

২৮ মিনিটে বালোগুন বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। তবে মাত্র তিন মিনিট পর আর ভুল করেননি তিনি। ৩১তম মিনিটে পুলিসিকের নিখুঁত পাস থেকে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে ডান পায়ের শটে গোলরক্ষক গিলকে পরাস্ত করেন বালোগুন। তাতে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। এর আগে ২৮ মিনিটেও গোল করেছিলেন ফোলারিন। তবে অফ সাইডের কারণে সেটি বাতিল করে দেওয়া হয়।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও প্যারাগুয়ে ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি। উল্টো ৪৩তম মিনিটে মালিক টিলম্যানের কাছ থেকে বল পেয়ে কাছাকাছি দূরত্ব থেকে শট নেন তিনি, তবে অসাধারণ সেভে দলকে বাঁচান গিল।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আসে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় গোল। ৪৫+৫ মিনিটে মালিক টিলম্যানের নিখুঁত পাস ধরে ডিফেন্স ভেঙে গোল করেন ফোলারিন বালোগুন। ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্বাগতিকদের ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

প্রথমার্ধের পরিসংখ্যানে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। প্রায় ৭০ শতাংশ বলের দখল ছিল তাদের কাছে। পুলিসিক একটি অ্যাসিস্ট করেন, ম্যাককেনি আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং বালোগুন জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়কে পরিণত হন।

Advertisement

অন্যদিকে প্যারাগুয়ের জন্য হতাশার রাতের সূচনা হয় ১০ মিনিটেই, যখন হুয়ান কাসেরেস পুলিসিককে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন। এরপর আত্মঘাতি গোল, রক্ষণভাগের ভুল এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুতগতির আক্রমণের সামনে অসহায় দেখায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটিকে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এটি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় ম্যাচ। এর আগে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র দেখায় ৩-০ গোলেই জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ৯৬ বছর পর আবারও একই ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপ মঞ্চে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রাখল স্বাগতিকরা।

আইএইচএস/