আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে যুব কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে গণঅধিকার পরিষদ। একই সঙ্গে দলটি বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলোকে স্বাগত জানিয়ে জনগণকেন্দ্রিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
Advertisement
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে রাজধানীতে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ। বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য দেন দলের মুখপাত্র ফারুক হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান খান, দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রবিউল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহজাহান ও আশরাফুল আলম, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান, পেশাজীবী অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান সুমন প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে গণঅধিকার পরিষদ জানায়, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দলটি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যুব বেকারত্ব, বিনিয়োগে স্থবিরতা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও রাজস্ব আহরণে সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো উল্লেখ করে।
Advertisement
গণঅধিকার পরিষদ বাজেটের ইতিবাচক দিক হিসেবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া, ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে গুরুত্ব এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়গুলো তুলে ধরে।
আরও পড়ুন বাজেটে চাঁদাবাজির স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে: নাসীরুদ্দীনতবে বাজেটের বেশ কয়েকটি দুর্বলতার কথাও উল্লেখ করা হয়। গণঅধিকার পরিষদের মতে, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা কিংবা জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির স্পষ্ট রূপরেখা বাজেটে নেই। এছাড়া ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি পূরণে ঋণনির্ভর অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অন্যদিকে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে, যা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সম্মিলিত বরাদ্দের কাছাকাছি।
দুর্নীতি ও অপচয় রোধে দৃশ্যমান কাঠামোর অভাব এবং মধ্যবিত্ত, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নতুন উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও স্টার্টআপ খাতের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকাকেও বাজেটের সীমাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
Advertisement
গণঅধিকার পরিষদ বাজেট বাস্তবায়নে কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে- আগামী তিন বছরে অন্তত ২০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে ‘জাতীয় যুব কর্মসংস্থান মিশন’ চালু করা, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন, বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, বাজেটের মধ্যে সম্ভাবনা থাকলেও তার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে হলে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী করতে হবে। একই সঙ্গে বাজেটের কেন্দ্রবিন্দুতে যুবসমাজ, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতিমুক্ত সুশাসনকে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এমডিএএ/একিউএফ