জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের দোহাই দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে বিদেশ সফর পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জনগণকে মিতব্যয়িতার পরামর্শ দেওয়ার কয়েকদিনের মাথায় তিনি নিজেই দীর্ঘ সফরে ইউরোপের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই দ্বিচারিতা নিয়ে এরই মধ্যে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
Advertisement
জানা গেছে, নরেন্দ্র মোদীর ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া সফর চলবে ১৩ জুন থেকে ১৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। মোট ছয়দিনের এই সরকারি সফরের প্রথম ধাপে ১৩-১৪ জুন তিনি ফ্রান্সের নিস (Nice) শহরে অবস্থান করবেন এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। সেখানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে আলোচনা হতে পারে।
আরও পড়ুন তেল সংকটে মোদীর পরামর্শ / ‘এক বছর সোনা কিনবেন না, বিদেশ যাবেন না, ঘরে বসে কাজ করুন’এরপর ১৪-১৬ জুন তিনি স্লোভাকিয়া সফরে যাবেন। ১৯৯৩ সালে স্লোভাকিয়ার স্বাধীনতার পর এটিই কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। এসময় স্লোভাকিয়ায় সেন্ট্রাল ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন জোত গঠনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পরবর্তীতে, ১৬-১৭ জুন সফরের তৃতীয় ধাপে মোদী আবারও ফ্রান্সে ফিরে ইভিয়ান শহরে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ (G7) সম্মেলনে অংশ নেবেন। ১৮ জুন সফরের শেষ দিনে তিনি প্যারিসে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি মেলা ‘ভিভাটেক’ (VivaTech)-এ যোগ দেবেন এবং ওইদিনই সফর শেষ করবেন।
Advertisement
অথচ এই সফরের ঠিক আগেই এক রাষ্ট্রীয় ভাষণে নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি আমদানি করা জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে সাধারণ জনগণকে এক বছর বিদেশ ভ্রমণ না করার অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরপরই তার এই বিলাসবহুল বিদেশ সফরকে ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। বিরোধীদের দাবি, সাধারণ মানুষের ওপর কৃচ্ছ্রতা সাধনের নিয়ম চাপিয়ে দিয়ে সরকার নিজে করদাতাদের কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিদেশ সফর করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাধারণ নাগরিকেরা এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
সূত্র: আকাশবাণী, দ্য টেলিগ্রাফকেএএ/
Advertisement