নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) খোরশেদ আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
Advertisement
রোববার (১৪ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন। এর আগে শনিবার রাতেই অভিযুক্তকে নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১২ বছরের ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। গত কয়েকমাস আগে এ ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করে এর কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান তারা।
এদিকে শনিবার (১৩ জুন) ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার মায়ের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণসহ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলমকে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনের সংযুক্ত করা হয়েছে।
Advertisement
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার জানায়, তার মা ও ভাই দীর্ঘদিন ধরে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করে আসছেন। সেই সুবাদে ওই কিশোরীও প্রায়ই তদন্ত কেন্দ্রে যাতায়াত করত।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তদন্তকেন্দ্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম বিভিন্ন সময় মেয়েটিকে তার ঘরে ডেকে নিতেন। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে।
ঘটনাটি কাউকে না জানাতে কিশোরীকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় টাকার প্রলোভনও দেখানো হতো। পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এতদিন বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল বলে জানান তারা।
অপরদিকে, ধর্ষণের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম।
Advertisement
তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জাহাজমারা তদন্তকেন্দ্রে কর্মরত এক এএসআইয়ের (সহকারী উপ-পরিদর্শক) অনিয়মের কারণে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। এতে তিনি আমার ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
খোরশেদ আলমের দাবি, যে কিশোরীকে দিয়ে অভিযোগ করানো হয়েছে, সে মূলত ওই এএসআইয়ের বাসায় কাজ করত। বদলির প্রতিশোধ নিতেই ওই এএসআই পরিকল্পিতভাবে এ অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে সরকারি একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হাতিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইকবাল হোসেন মজনু/কেএইচকে/এমএস