যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক এবং ইলেকট্রনিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবার কথা রয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো, হরমুজ পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
Advertisement
রোববার (১৪ জুন) এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে অ্যাক্সিওস।
প্রায় তিন মাসের আলোচনার ফল প্রস্তাবিত এই ভার্চুয়াল স্বাক্ষর। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তান, কাতার, মিশর ও তুরস্ক মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সূত্র জানিয়েছে, মূলত লজিস্টিক কারণে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্রগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। স্মারক স্বাক্ষরের জন্য তিনি সরাসরি উপস্থিত থাকলে ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়া কঠিন হতো।
Advertisement
মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের সময় মিশর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ শনিবার (১৩ জুন) এক্সে লিখেছেন, আমরা শান্তিচুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে আছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তান ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এরপর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।
এর কিছুক্ষণ পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে যে ভার্চুয়াল স্বাক্ষর অনুষ্ঠান রোববারের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
Advertisement
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, চুক্তিটি আগামীকাল স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত হবে। ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগের প্রশাসনগুলোর তুলনায় অনেক ভিন্ন এবং ভালো।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি শান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক উপকরণ (nuclear dust) সংগ্রহ ও ধ্বংস করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে, চুক্তি দ্রুত ও মসৃণভাবে বাস্তবায়িত না হলে আবারও সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হতে পারে।
এছাড়া সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে, আগের সময়সূচির কারণে তিনি অংশ নিতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনাও নেই।
আরও পড়ুন>>১৪ দফা খসড়া: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে হবে চূড়ান্ত চুক্তি
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এবারের জি-৭ বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে ইরানের সঙ্গে চুক্তি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সুযোগসমূহ। এছাড়া হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
কেএম