কক্সবাজারের টেকনাফে বন্য হাতিরা পাহাড় ছেড়ে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে আসছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।
Advertisement
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে টেকনাফের হ্নীলার বড়ইতলীতে একটি বড় বন্যহাতি পাহাড়ি এলাকা থেকে লোকালয়ে আসে। এর আগেও টেকনাফের নাইট্যংপাড়া, হ্নীলা, হোয়াইক্যং, শামলাপুর, হরিখোলা ও বাহারছড়া এলাকায় একাধিকবার দলবদ্ধভাবে বা এককভাবে বন্যহাতির দেখা মিলেছে।
জানা গেছে, পাহাড়ি এলাকায় বন্য হাতির খাদ্য ও আবাসস্থলের সংকট, বন উজাড় এবং হাতির চলাচলের করিডোর দখল হয়ে যাওয়ায় তারা পাহাড়ি বনাঞ্চল ছেড়ে লোকালয়ের দিকে আসছে।
তবে পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা বন্য হাতি সাধারণত মানুষের ওপর সরাসরি আক্রমণ করে না। মূলত খাদ্য, পানি ও নিরাপদে চলাচলের সন্ধানেই তারা লোকালয়ে প্রবেশ করে। আতঙ্কিত বা বাধার মুখে পড়লে হাতি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। মানুষের ফসলি জমি ও বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করতে পারে।
Advertisement
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার বিকেলে বড়ইতলী এলাকায় পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে একটি বন্য হাতি লোকালয়ে নেমে আসে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বন বিভাগের সদস্যরা হাতিটিকে নিরাপদে পুনরায় পাহাড়ি এলাকায় ফিরিয়ে দেন।‘
স্থানীয় বাসিন্দা অংচি চাকমা বলেন, ‘রাত হলে প্রায় সময়ই হরিখোলা গ্রামে বন্য হাতি চলে আসে। তখন স্থানীয়রা মিলে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। হাতির উপদ্রব থেকে ফসলি জমি ও অন্যান্য সম্পদ রক্ষার জন্য গাছের ওপর ছোট ছোট টংঘর তৈরি করতে হয়। সেখানে রাত জেগে পাহারা দিতে হয়।
টেকনাফের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘শনিবার বিকেলে বড়ইতলী এলাকায় একটি বন্য হাতি লোকালয়ে চলে আসে। পরে বন বিভাগের সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাতিটিকে পুনরায় পাহাড়ি এলাকায় ফিরিয়ে দেন।‘
তিনি আরও বলেন, ‘মাঝে মধ্যে বন্য হাতি লোকালয়ে চলে আসে। তবে বনে হাতির খাদ্যের বড় ধরনের সংকট নেই। তবুও বিভিন্ন সময় লোকালয়ের দিকে আসে। হাতি সাধারণত কারও ক্ষতি করে না, নিজের মতো করেই ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করে।’
Advertisement
জাহাঙ্গীর আলম/এমএস