খেলাধুলা

বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচের আগে জার্মানিকে সতর্কবার্তা দিলো কুরাসাও

বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে অঘটন ঘটানোর আশা দেখছেন কুরাসাওয়ের প্রধান কোচ ডিক অ্যাডভোকাট। তার বিশ্বাস, ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটি রোববারের ম্যাচে জার্মানির কাছ থেকে কিছু পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে পারে।

Advertisement

৭৮ বছর বয়সী এই ডাচ কোচ বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক প্রধান কোচ হিসেবেও নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন। এর আগে তিনি নেদারল্যান্ডস ও দক্ষিণ কোরিয়ার দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন। কুরাসাওকে নিয়ে এটি হবে তার তৃতীয় ভিন্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ অভিযান।

ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও অ্যাডভোকাটের মতে, মাত্র ১ লাখ ৬০ হাজার জনসংখ্যার একটি দেশকে বিশ্বকাপে তুলে আনার পেছনে যে দলীয় ঐক্য কাজ করেছে, তা তার দেখা সেরা একটি দিক।

ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই দলের মধ্যে যে দলীয় চেতনা রয়েছে, তা আমি আগে কখনো দেখিনি। একটি দেশ হিসেবে আমরা দ্বীপটির জন্য জয়ের লক্ষ্যে সর্বস্ব উজাড় করে দেব। তবে আমরা ফেভারিট নই। নেদারল্যান্ডস বা বড় কোনো দলের হয়ে খেললে আপনি ফেভারিটদের একজন থাকেন। কিন্তু এখন এই যাত্রার অংশ হতে পারাটাই অসাধারণ।

Advertisement

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাইকে দেখাতে চাই আমরা কী করতে পারি এবং আমাদের সামর্থ্য কতটুকু। কুরাসাও দ্বীপের জন্য গত দুই বছরে আমরা যা দেখিয়েছি, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

তবে অ্যাডভোকাটের দলের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। গ্রুপ ‘ই’-তে জার্মানির পাশাপাশি তাদের খেলতে হবে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে রানার্সআপ হওয়া ইকুয়েডর এবং আফ্রিকার শক্তিশালী দল আইভরি কোস্টের বিপক্ষে।

অ্যাডভোকাট বলেন, ‘আমাদের হয়তো কিছু পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে হবে, তবে সেটা বৈধ উপায়েই। আমরা দেখাতে চাই যে আমাদের একটি ভালো পরিকল্পনা আছে। তবে জার্মানিই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, আর সেটাই স্বাভাবিক।’

এরই মধ্যে কুরাসাওয়ের নির্ভার মনোভাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, দলীয় বাসে খেলোয়াড়রা খালি গায়ে গান গাইছেন ও নাচছেন।

Advertisement

দলের অধিনায়ক লিয়ান্দ্রো বাকুনা বলেন, ‘আমরা এমন একটি জাতি, যারা একটু উৎসব-আনন্দ করতেও ভালোবাসি। আমরা আনন্দ করতে পছন্দ করি।’

বাকুনাও তার বেশিরভাগ সতীর্থদের মতো নেদারল্যান্ডসে জন্ম নিলেও নিজের শিকড় ও কুরাসাওকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার অর্জন নিয়ে তিনি গর্বিত।

সাবেক অ্যাস্টন ভিলা মিডফিল্ডার বাকুনা বলেন, ‘অনেক সময় মানুষ বলে আমি সত্যিকার অর্থে কুরাসাওয়ের নই। কিন্তু আমার বাবা-মা সুযোগের সন্ধানে নেদারল্যান্ডসে গিয়েছিলেন, কারণ সেই সুযোগগুলো সবসময় কুরাসাওয়ে পাওয়া যায় না। তবু আমরা কুরাসাওয়ের মানুষ, আর আমরা কুরাসাওকে ভালোবাসি!’

এমএমআর