আন্তর্জাতিক

অস্ট্রেলিয়ায় সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চীন

চীন এখন অস্ট্রেলিয়ার ওপর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে। পাশাপাশি দীর্ঘপাল্লার ও হাইপারসনিক অস্ত্রের মজুত বৃদ্ধি ও দক্ষিণ চীন সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণের ফলে এই হুমকি আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

Advertisement

রোববার (১৪ জুন) প্রকাশিত লোয়ি ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় সামরিক ঝুঁকি হলো চীনের জাহাজ, সাবমেরিন এবং নতুন মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সম্ভাব্য হামলা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী এক দশকে চীনের হামলার সক্ষমতা আরও বাড়বে, কারণ ডিএফ-২৭ মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ওয়ারহেড বহনকারী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বাড়ছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ডিএফ-২৭ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার কিলোমিটার।

Advertisement

প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হুমকির বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে যথেষ্ট পরিষ্কার নয়। তবে এই মূল্যায়ন চীনের সামরিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, তাদের উদ্দেশ্যের ওপর নয়।

লোয়ি ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক স্যাম রোগেভিন বলেন, এই প্রতিবেদনটি আতঙ্ক সৃষ্টিকারী নয়, আবার আত্মতুষ্টিও নয়।

তিনি বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির দ্রুত সম্প্রসারণ। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আরও তথ্যভিত্তিক আলোচনা প্রয়োজন।

চীনের নৌবাহিনীর দ্রুত সম্প্রসারণ এবং বেইজিং-ওয়াশিংটনের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিন বছর আগে অস্ট্রেলিয়া তাদের সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আনে। নতুন কৌশলে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় প্রবেশপথে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

Advertisement

তবে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সরকার অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে সরাসরি হামলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে অনীহা দেখিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের পক্ষ থেকে সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবল বিচ্ছিন্ন করা, সাইবার হামলা চালানো এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করা এখনো অস্ট্রেলিয়ার জন্য প্রধান ঝুঁকি। তবে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকিও বাস্তব এবং ক্রমবর্ধমান।

এতে আরও বলা হয়, চীনের ডং ফেং-২৬ (ডিএফ-২৬) মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের নির্মিত কৃত্রিম দ্বীপ থেকে মোতায়েন করা হলে তা অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানতে সক্ষম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন যদি দূরপাল্লার মানবচালিত বা ড্রোন বোমারু বিমান মোতায়েন করে, অথবা অস্ট্রেলিয়ার কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমারু বিমান স্থাপন করে, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য হুমকি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদারে অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। অস্ট্রেলিয়া চায়, এসব অঞ্চলে চীন যেন কোনো সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে না পারে।

সূত্র: এএফপি

এমএসএম