লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০১৪ সালে মারাকানা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন জার্মানির খেলোয়াড়রা। চ্যাম্পিয়ন সেই জার্মানি পরের দুই আসরে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকে।
Advertisement
দুই আসরের প্রথম ম্যাচে হারই ছিল জার্মানদের বিদায়ের প্রধান কারণ। রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলে হেরেছিল মেক্সিকোর কাছে, কাতারে ২-১ গোলে এশিয়ার দেশ জাপানের কাছে।
এবার কী করবে চারবারের চ্যাম্পিয়নরা? বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্মানির প্রথম ম্যাচের রেকর্ড ভালো হলেও সর্বশেষ দুই আসরের ফল দলটির সমর্থকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। যদিও অনেকের চোখে এবার জার্মানি বেশ স্বস্তিতে প্রথম ম্যাচ নিয়ে। মেক্সিকো বা জাপানের মতো বিশ্বকাপে খেলা অভিজ্ঞ দল নয়, এবার প্রথম ম্যাচে জার্মানির প্রতিপক্ষ যে নবাগত কুরাসাও।
তবে বিশ্বকাপে আন্ডারডগ বলতে কোনো দল থাকে না। প্রতিটি দলই যোগ্যতা অর্জন করে এই মঞ্চে আসে। ছোট ছোট দল জায়ান্টাদের হারিয়ে চমক দেখায়। গত দুই আসরের ফলাফলের ভিত্তিতে অবশ্য জার্মানিকে বিচার করা যাবে না। বিশ্বকাপ মানেই জার্মানিকে ঘিরে আলাদা প্রত্যাশা। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির সাথে নবাগত কুরাসাওয়ের কাগজে-কলমে শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট হলেও বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে চমকের ইতিহাস কম নয়।
Advertisement
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, সর্বশেষ দুই আসর বাদ দিলে উদ্বোধনী ম্যাচে জার্মানির অতীত রেকর্ড ভালো। বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্মানি (পশ্চিম জার্মানি ও একীভূত জার্মানি মিলিয়ে) বেশিরভাগ সময়ই প্রথম ম্যাচে দাপট দেখিয়েছে। ১৯৫৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পথে প্রথম ম্যাচেই তারা তুরস্ককে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল। এরপর ১৯৫৮ সালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল ৩-১ গোলে। ১৯৬৬ সালে সুইজারল্যান্ডকে ৫-০ এবং ১৯৭০ সালে মরক্কোকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল জার্মানরা।
স্বাগতিক হিসেবে ১৯৭৪ বিশ্বকাপেও শুরুটা ছিল জয় দিয়ে। তবে সব সময় পথ মসৃণ ছিল না। ১৯৮২ সালে প্রথম ম্যাচেই বড় অঘটনের শিকার হয়ে আলজেরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় পশ্চিম জার্মানি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় আপসেট হিসেবে এখনও সেই ম্যাচ আলোচিত।
১৯৮৬ প্রথম ম্যাচে উরুগয়ের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র , ১৯৯০ সালে প্রথম ম্যাচে যুগোস্লাভিয়াকে ৪-১ গোলে, , ১৯৯৪ সালে বলিভিয়াকে ১-০ গোলে ও ১৯৯৮ যুক্তরাষ্ট্রকে ২-০ গোলে হারায় জার্মানি। ২০০২ সালে সৌদি আরবকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা শক্ত বার্তা দিয়েছিল। ২০০৬ সালে নিজেদের দেশের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে কোস্টারিকাকে ৪-২ গোলে হারিয়েছিল জার্মানি। ২০১০ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-০ গোলে হারায় জার্মানরা। সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হওয়া আসরে ২০১৪ সালে জার্মানির শুরুটাও ছিল স্বপ্নের মতো। পর্তুগালকে প্রথম ম্যাচে হারিয়েছিল ৪-০ গোলে।
দূর আর নিকট অতীতের তথ্যগুলো মিলিয়ে দেশটির সমর্থকরা প্রথম ম্যাচ নিয়ে আশা ও শঙ্কার মধ্যেই আছে। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে আজকের ম্যাচকে জার্মানি শুধু একটি সহজ সূচনা হিসেবে দেখছে না। ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। নতুন দল কিংবা আন্ডারডগ প্রতিপক্ষও কখনো কখনো জায়ান্টদের স্বপ্নে ধাক্কা দিতে পারে। আর সেই কারণেই কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সও চাইবে জার্মানি।
Advertisement
এবারের বিশ্বকাপে জার্মানি 'ই' গ্রুপে। অন্য দুই দল আইভরি কোস্ট এবং ইকুয়েডর। রোববার রাতে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি যুক্তরাষ্টের টেক্সসাসে। জার্মানি সর্বশেষ দুই আসরের দুর্বিসহ অভিজ্ঞতা কাটিয়ে জয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশন শুরু করতে পারবে কিনা সেটাই দেখার।
আরআই/এমএমআর