খেলাধুলা

কামব্যাক সিরিজে ‘লেটার মার্কস’ মোসাদ্দেকের, এবার দলে থিতু হবেন তো?

সাকিব আল হাসান দলে থাকার পরও বাংলাদেশ বিভিন্ন সময় দুইজন এমনকি তিনজন বাঁহাতি স্পিনার নিয়েও খেলেছে। আবার অলরাউন্ডার সাকিবের পাশাপাশি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ থাকতেও স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজের অভিষেক ঘটেছে।

Advertisement

কারণ যাই থাকুক, কঠিন সত্য হলো সাকিব আল হাসান দলে নেই এখন। স্পিনিং অলরাউন্ডারের কোটায় মেহেদী হাসান মিরাজের সাথে বাড়তি অফস্পিনার কাম মিডল অর্ডার হিসেবে দলে নেয়া হয়েছে গত কয়েক বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট, বিশেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলে আসা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে।

৪ বছর পর জাতীয় দলে ফিরেই ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত অলরাউন্ডিং নৈপুণ্য (৭০ বলে ৮৬ রান ও ২/৩৭) দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয়ের নায়ক হয়েছেন মোসাদ্দেক।

পরের ম্যাচে (১৫) সুবিধা করতে না পারলেও আজ ১৪ জুন তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে আবার নিজেকে মেলে ধরলেন মোসাদ্দেক।

Advertisement

৪ বছর জাতীয় দলের বাইরে থেকে শুধু ঢাকা লিগ খেলে অস্ট্রেলিয়ার মতো শতভাগ পেশাদার দলের ৩ ম্যাচের সিরিজে একটিতে ৮০’র ঘরে আর অপর ম্যাচে ৫০+ করা সহজ কাজ নয়। বেশ কঠিন। কারণ ঢাকা লিগের সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মেজাজ, ধরন ও মানের বিস্তর ফারাক। নিজেকে অল্প সময়ে মানিয়ে নেয়া কঠিন।

অনেকের পক্ষেই তা করা সম্ভব হয় না। এক সিরিজে একজোড়া ভালো ইনিংস খেলে মোসাদ্দেক সেই কঠিন কাজটিই করে দেখিয়েছেন।

আগেও ভালো খেলার রেকর্ড আছে তার। তবে এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো মোসাদ্দেককে অন্যরকম মনে হচ্ছে। আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটছেন। নিজের সামর্থ্যের প্রতি আস্থাও বেড়েছে অনেকটা। স্পিনারদের বিপক্ষে ফুটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে লং অফ, লং অনের ওপর দিয়ে তুলে মারার অভ্যাসটা তৈরি হয়েছে।

দুটি ম্যাচেই অসি লেগ স্পিনার জাম্পা আর অফস্পিনার ম্যাথিউ রেনশোকে স্টেপ আপ করে উইকেটের সামনে বেশ নিয়ন্ত্রিত শটস খেলেছেনও।

Advertisement

দলের বাইরে চলে যাওয়ার আগে ও পরে সমালোচকদের মুখে শোনা গেছে যে, মোসাদ্দেক স্পিনে যত কনফিডেন্ট, পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে ততটা স্বচ্ছন্দ নন। এবার অসি পেসার জেভিয়ার বার্টলেট, ক্যামেরন গ্রিনদের বিপক্ষে মোটামুটি সাবলীল ছিল তার ব্যাট।

এর বাইরে আরও একটি চোখে পড়ার মতো বিষয় ফুটে উঠেছে মোসাদ্দেকের ব্যাটিংয়ে। তা হলো, যে ২ ম্যাচে তিনি রান করেছেন, উভয় খেলায়ই দলের অবস্থা তখন ততটা ভালো ছিল না। ছয় নম্বর পজিশনে নামা মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকে লম্বা ও খানিক মারমুখী ইনিংস দরকার ছিল। মোসাদ্দেক দুই ম্যাচেই তা করে দেখিয়েছেন। দুই খেলাতেই তিনি ১০০’র মতো স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করে শেষ বল পর্যন্ত ক্রিজে ছিলেন। মানে তার কারণেই প্রথম ও তৃতীয় ম্যাচে ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত বাংলাদেশ ইনিংসে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যাটার উইকেটে ছিলেন।

শুরুতে নেমে ১০০’র আশপাশে স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করে ৫০, ৬০ করে আউট হয়ে যাওয়া, না হয় মিডল অর্ডারে নেমে একটা পঞ্চাশোত্তীর্ণ চটকদার ইনিংস খেলে ৪০ ওভারের পর আউট হয়ে যাওয়ার ঘটনাই বাংলাদেশে বেশি। মোসাদ্দেক সেখান থেকে বেরিয়ে ইনিংস শেষ করে আসার ইচ্ছেটা দেখিয়েছেন। সেটাই দরকার ছিল।

মোদ্দা কথা ‘কামব্যাক’ সিরিজে মোসাদ্দেক সফল। লেটার মার্কস পেলেন। এখন দেখার বিষয় সামনের দিনগুলোয় এ রান ক্ষুধা ও দায়িত্ববোধ থাকে কিনা!

এআরবি/এমএমআরা সিরিজে ‘লেটার মার্কস’ মোসাদ্দেকের, ভবিষ্যতে এই ক্ষুধা থাকবে তো?

সাকিব আল হাসান দলে থাকার পরও বাংলাদেশ বিভিন্ন সময় দুইজন এমনকি তিনজন বাঁহাতি স্পিনার নিয়েও খেলেছে। আবার অলরাউন্ডার সাকিবের পাশাপাশি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ থাকতেও স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজের অভিষেক ঘটেছে।

কারণ যাই থাকুক, কঠিন সত্য হলো সাকিব আল হাসান দলে নেই এখন। স্পিনিং অলরাউন্ডারের কোটায় মেহেদী হাসান মিরাজের সাথে বাড়তি অফস্পিনার কাম মিডল অর্ডার হিসেবে দলে নেয়া হয়েছে গত কয়েক বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট, বিশেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলে আসা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে।

৪ বছর পর জাতীয় দলে ফিরেই ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত অলরাউন্ডিং নৈপুণ্য (৭০ বলে ৮৬ রান ও ২/৩৭) দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয়ের নায়ক হয়েছেন মোসাদ্দেক।

পরের ম্যাচে (১৫) সুবিধা করতে না পারলেও আজ ১৪ জুন তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে আবার নিজেকে মেলে ধরলেন মোসাদ্দেক।

৪ বছর জাতীয় দলের বাইরে থেকে শুধু ঢাকা লিগ খেলে অস্ট্রেলিয়ার মতো শতভাগ পেশাদার দলের ৩ ম্যাচের সিরিজে একটিতে ৮০’র ঘরে আর অপর ম্যাচে ৫০+ করা সহজ কাজ নয়। বেশ কঠিন। কারণ ঢাকা লিগের সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মেজাজ, ধরন ও মানের বিস্তর ফারাক। নিজেকে অল্প সময়ে মানিয়ে নেয়া কঠিন।

অনেকের পক্ষেই তা করা সম্ভব হয় না। এক সিরিজে একজোড়া ভালো ইনিংস খেলে মোসাদ্দেক সেই কঠিন কাজটিই করে দেখিয়েছেন।

আগেও ভালো খেলার রেকর্ড আছে তার। তবে এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো মোসাদ্দেককে অন্যরকম মনে হচ্ছে। আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটছেন। নিজের সামর্থ্যের প্রতি আস্থাও বেড়েছে অনেকটা। স্পিনারদের বিপক্ষে ফুটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে লং অফ, লং অনের ওপর দিয়ে তুলে মারার অভ্যাসটা তৈরি হয়েছে।

দুটি ম্যাচেই অসি লেগ স্পিনার জাম্পা আর অফস্পিনার ম্যাথিউ রেনশোকে স্টেপ আপ করে উইকেটের সামনে বেশ নিয়ন্ত্রিত শটস খেলেছেনও।

দলের বাইরে চলে যাওয়ার আগে ও পরে সমালোচকদের মুখে শোনা গেছে যে, মোসাদ্দেক স্পিনে যত কনফিডেন্ট, পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে ততটা স্বচ্ছন্দ নন। এবার অসি পেসার জেভিয়ার বার্টলেট, ক্যামেরন গ্রিনদের বিপক্ষে মোটামুটি সাবলীল ছিল তার ব্যাট।

এর বাইরে আরও একটি চোখে পড়ার মতো বিষয় ফুটে উঠেছে মোসাদ্দেকের ব্যাটিংয়ে। তা হলো, যে ২ ম্যাচে তিনি রান করেছেন, উভয় খেলায়ই দলের অবস্থা তখন ততটা ভালো ছিল না। ছয় নম্বর পজিশনে নামা মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকে লম্বা ও খানিক মারমুখী ইনিংস দরকার ছিল। মোসাদ্দেক দুই ম্যাচেই তা করে দেখিয়েছেন। দুই খেলাতেই তিনি ১০০’র মতো স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করে শেষ বল পর্যন্ত ক্রিজে ছিলেন। মানে তার কারণেই প্রথম ও তৃতীয় ম্যাচে ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত বাংলাদেশ ইনিংসে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যাটার উইকেটে ছিলেন।

শুরুতে নেমে ১০০’র আশপাশে স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করে ৫০, ৬০ করে আউট হয়ে যাওয়া, না হয় মিডল অর্ডারে নেমে একটা পঞ্চাশোত্তীর্ণ চটকদার ইনিংস খেলে ৪০ ওভারের পর আউট হয়ে যাওয়ার ঘটনাই বাংলাদেশে বেশি। মোসাদ্দেক সেখান থেকে বেরিয়ে ইনিংস শেষ করে আসার ইচ্ছেটা দেখিয়েছেন। সেটাই দরকার ছিল।

মোদ্দা কথা ‘কামব্যাক’ সিরিজে মোসাদ্দেক সফল। লেটার মার্কস পেলেন। এখন দেখার বিষয় সামনের দিনগুলোয় এ রান ক্ষুধা ও দায়িত্ববোধ থাকে কিনা!

এআরবি/এমএমআর