বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ই’-তে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে শুরুতে দাপট দেখালেও মাঝপথে ধাক্কা খেয়েছিল জার্মানি। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বই প্রতিষ্ঠা করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। হিউস্টনে কুরাসাওয়ের ঐতিহাসিক সমতায় ফেরার পরও প্রথমার্ধ শেষ করেছে ৩-১ গোলের স্বস্তিদায়ক লিড নিয়ে।
Advertisement
মরক্কোর রেফারি জালাল জায়েদের বাঁশিতে খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল জার্মানির হাতে। ষষ্ঠ মিনিটেই সেই আধিপত্যের প্রতিফলন ঘটে। ফ্লোরিয়ান ভির্ৎজের নিখুঁত পাস থেকে প্রথম ছোঁয়ায় দারুণ কার্লিং শটে গোল করেন ফেলিক্স নমেচা। বিশ্বকাপ অভিষেকেই গোল পেয়ে জার্মানিকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে জার্মানি। অষ্টম মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে নমেচার শক্তিশালী শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ১০ মিনিটে ভির্টজ এবং লেরয় সানের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। ১৪ মিনিটে ভির্টজের বাঁকানো শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে দ্বিতীয় গোল থেকে বঞ্চিত হয় জার্মানরা।
ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিট পর্যন্ত জার্মানির একচেটিয়া আধিপত্যের মধ্যেই হঠাৎ চমক দেখায় কুরাসাও। ২১তম মিনিটে জার্গেন লোকাডিয়ার শট ব্লক হওয়ার পর ফিরতি বল পান লিভানো কোমেনেনসিয়া। তার বাঁ পায়ের শট জশুয়া কিমিখের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে ম্যানুয়েল ন্যুয়ারকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় কুরাসাও এবং স্কোরলাইন হয় ১-১।
Advertisement
ঐতিহাসিক গোলের পর কিছুটা চাপে পড়ে জার্মানি। এমনকি ২৩তম মিনিটে লোকাডিয়াকে ঘিরে কুরাসাও শিবির পেনাল্টির দাবিও তোলে। যদিও রেফারি তাতে সাড়া দেননি।
সমতায় ফেরার পর জার্মানি আবারও আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায়। ২৭ মিনিটে জশুয়া কিমিখের ফ্রি-কিক থেকে নিকো শ্লটারবেকের দুর্দান্ত হেড গোলরক্ষক এলোই রুম কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান। ৩৩ মিনিটে লেরয় সানের নিশ্চিত গোলের সুযোগ অসাধারণ স্লাইডিং ট্যাকলে নষ্ট করেন ডেভেরন ফনভিল।
তবে ৩৮তম মিনিটে আর রক্ষা হয়নি কুরাসাওয়ের। নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে সামনে উঠে এসে সহজ হেডে বল জালে পাঠান শ্লটারবেক। ২০১৪ বিশ্বকাপে ম্যাটস হুমেলসের পর প্রথম জার্মান ডিফেন্ডার হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করলেন তিনি। তাতে ২-১ ব্যবধানে আবারও এগিয়ে যায় জার্মানি।
প্রথমার্ধের শেষদিকে আরও চাপ বাড়ায় ইউরোপিয়ান শক্তিধররা। ৪৫ মিনিটে পাভলোভিচের গোলমুখী শট ব্লক হয়। যোগ করা সময়ে বক্সের মধ্যে রিচেডলি বাজারের ফাউলে পেনাল্টি পায় জার্মানি। ফেলিক্স নমেচাকে ফেলে দেওয়ায় স্পটকিকের নির্দেশ দেন রেফারি।
Advertisement
৪৫+৫ মিনিটে পেনাল্টি নিতে এসে কোনো ভুল করেননি কাই হাভার্টজ। কুরাসাও গোলরক্ষক এলোই রুমকে ভুল পথে পাঠিয়ে নিচের বাঁ কোণে বল জড়িয়ে দেন তিনি। তাতে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জার্মানি।
প্রথমার্ধে বল দখল, আক্রমণ, সুযোগ সৃষ্টি—সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল জার্মানি। তবে কুরাসাওও তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোল করে স্মরণীয় এক মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। তবু বিরতিতে দুই গোলের লিড নিয়ে স্বস্তিতেই রয়েছে জার্মানরা, আর কুরাসাওয়ের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন দ্বিতীয়ার্ধ।
আইএইচএস/