২০১৮ বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিল জার্মানি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় মেসুত ওজিলরা। এরপর শেষ দল হিসেবে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়। ২০২২ বিশ্বকাপেও একই পরিণতি। এবার চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা হারলো জাপানের কাছে ২-১ গোলে। এবারও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় তাদের।
Advertisement
জার্মানদের জন্য বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব যেন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপিং এবং সূচি নির্ধারিত হওয়ার পর জার্মানরা স্বপ্ন দেখা শুরু করে, সেই দুঃস্বপ্ন থেকে বের হওয়ার। কারণ, নবাগত এবং ক্ষুদ্র দ্বীপদেশ কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জয়ের জন্য স্পষ্ট ফেবারিট জার্মানরা।
কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার পর এক গোল দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পর যখন কুরাসাও ১ গোল দিয়ে সমতায় ফিরে আসলো, তখন সিঁদুরে মেঘ দেখার মত আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে যাচ্ছিল জার্মান সমর্থকরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জার্মানির ফুটবলাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এমনভাবে নিয়ে নিলো এবং একের পর এক গোল দিতে থাকলো, তাতে তারা কোথায় গিয়ে থামবে, সেটাই নির্ধারণ করা মুস্কিল হয়ে পড়ছিল।
শেষ পর্যন্ত নবাগত কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোল দিয়ে থামলো জার্মানি। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে টুর্নামেন্টে উড়ন্ত সূচনা করেছে হুলিয়ান নাগেলসমানের দল।
Advertisement
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে একচেটিয়া আধিপত্য দেখায় জার্মানি। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। ষষ্ঠ মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্ৎজের নিখুঁত পাস থেকে ফেলিক্স এনমেচা ডান পায়ের বাঁকানো শটে জার্মানিকে এগিয়ে দেন ১-০ ব্যবধানে।
গোলের পরও আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে জার্মানি। জামাল মুসিয়ালা, লেরয় সানে ও ভির্ৎজ একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও দ্বিতীয় গোল আসছিল না। উল্টো ২১তম মিনিটে ইতিহাস গড়ে কুরাসাও। জার্গেন লোকাডিয়ার শট ব্লক হওয়ার পর ফিরতি বলে লিভানো কোমেনেনসিয়ার শট জশুয়া কিমিখের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়ায়। বিশ্বকাপ ইতিহাসে কুরাসাওয়ের প্রথম গোলেই ১-১ সমতা ফেরে ম্যাচে।
তবে সমতায় খুব বেশি সময় থাকতে পারেনি কুরাসাও। ৩৮তম মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে হেডে গোল করে জার্মানিকে আবারও এগিয়ে দেন নিকো শ্লটারবেক। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সে ফেলিক্স এনমেচাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় জার্মানি। স্পট কিক থেকে কাই হাভার্টজ গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে করেন ৩-১।
বিরতির পর জার্মানি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। ৪৭তম মিনিটে কিমিখের বাড়ানো বল থেকে মুসিয়ালা নিখুঁত ফিনিশিংয়ে চতুর্থ গোল করেন। এরপর কুরাসাওয়ের রক্ষণ ভেঙে পড়তে শুরু করে।
Advertisement
৬৮তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় দেনিজ উনদাভের দারুণ ফ্লিক থেকে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেন নাথানিয়েল ব্রাউন। তাতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-১।
এর ১০ মিনিট পর আবারও গোলের দেখা পায় জার্মানি। কিমিখের পাস থেকে দেনিজ উনদাভ গোল করে ব্যবধান বাড়ান ৬-১ এ। ম্যাচের শেষ দিকে কুরাসাওয়ের ক্লান্ত রক্ষণকে আরও একবার শাস্তি দেন কাই হাভার্টজ। ৮৮তম মিনিটে উনদাভের থ্রু বল ধরে গোলরক্ষক এলয় রুমকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের সপ্তম গোলটি করেন আর্সেনাল ফরোয়ার্ড।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে ৭-১ গোলের বিশাল জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
জার্মানির হয়ে কাই হাভার্টজ জোড়া গোল করেন। এছাড়া ফেলিক্স এনমেচা, নিকো শ্লটারবেক, জামাল মুসিয়ালা, নাথানিয়েল ব্রাউন ও দেনিজ উনদাভ একটি করে গোল করেন। কুরাসাওয়ের একমাত্র গোলটি আসে লিভানো কোমেনেনসিয়ার পা থেকে, যা দেশটির বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোল হিসেবেও রেকর্ডে জায়গা করে নেয়।
দাপুটে এই জয়ে গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী বার্তা দিল জার্মানি। অন্যদিকে বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলো কুরাসাও।