মতামত

একটি মৃত্যু, বহু প্রশ্ন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন তরুণ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা আমাদের একটি অস্বস্তিকর প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে—সংকটের মুহূর্তে আমরা কি সত্যিই তরুণদের কথা শুনতে পাচ্ছি? সংবাদমাধ্যমের ভাষ্যে ঘটনাটির পেছনে সম্পর্কের জটিলতা, মানসিক বিপর্যস্ততা এবং তদন্তাধীন নানা প্রেক্ষাপটের কথা এসেছে। কিন্তু এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে শুধু একটি সম্পর্ক, একটি অভিমান, একটি ফোনকল বা একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত দিয়ে ব্যাখ্যা করা বিপজ্জনক সরলীকরণ। আত্মহননের মতো চরম সিদ্ধান্ত সাধারণত একক কোনো কারণের ফল নয়; এটি দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, একাকিত্ব, আবেগ নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, সহায়তা না চাওয়ার সংস্কৃতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার জটিল সমষ্টি।

Advertisement

আমাদের প্রথম কাজ হওয়া উচিত—ঘটনাটি কৌতূহল, গুজব বা দোষারোপের বিষয় না বানিয়ে এটি জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্বের প্রশ্ন হিসেবে দেখা। একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা সীমাবদ্ধতার প্রতিফলনও বটে।

আজকের তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর, কিন্তু মানসিকভাবে তারা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শত শত বন্ধু থাকলেও সংকটের মুহূর্তে কথা বলার মতো একজন নিরাপদ মানুষ অনেকেরই থাকে না। এই একাকিত্ব চোখে দেখা যায় না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে মানুষকে দুর্বল করে। আগে বন্ধুর সঙ্গে মাঠে হাঁটা, আড্ডা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, বিতর্ক, বই পড়া—এসব ছিল মানসিক ভারসাম্যের অনানুষ্ঠানিক বিদ্যালয়। এখন সেই জায়গার অনেকটাই দখল করেছে স্ক্রিন, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, তুলনা, প্রদর্শন এবং অদৃশ্য প্রতিযোগিতা।

তবে প্রযুক্তিকে একমাত্র দায়ী করলে ভুল হবে। স্ক্রিন একটি মাধ্যম; সমস্যা হলো, আমরা বাস্তব সম্পর্ক, মনোযোগ, ধৈর্য, শারীরিক সক্রিয়তা এবং আবেগীয় শিক্ষাকে অবহেলা করেছি। পরিবার সন্তানকে ভালো ফল করতে শিখিয়েছে, কিন্তু ব্যর্থতা সহ্য করতে শেখায়নি। শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিযোগিতা শিখিয়েছে, কিন্তু আত্মপরিচর্যা শেখায়নি। সমাজ সফলতার গল্প উদযাপন করেছে, কিন্তু ভেঙে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ভাষা তৈরি করেনি।

Advertisement

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তরুণদের মৃত্যুর বড় কারণগুলোর মধ্যে আত্মহত্যা একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এই তথ্য আমাদের আতঙ্কিত করার জন্য নয়; বরং বোঝানোর জন্য যে বিষয়টি ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা পারিবারিক লজ্জার বিষয় নয়। এটি একটি প্রতিরোধযোগ্য সংকট—যদি আমরা সময়মতো শুনতে শিখি, লক্ষণ বুঝতে শিখি এবং পেশাদার সহায়তাকে স্বাভাবিক করতে পারি।

আমাদের সমাজে এখনো মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর ভুল ধারণা রয়েছে। কেউ বিষণ্ণ হলে বলা হয়, ‘মন শক্ত করো।’ কেউ উদ্বেগে ভুগলে বলা হয়, ‘এত ভাবো কেন?’ কেউ সম্পর্ক, পড়াশোনা বা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেঙে পড়লে বলা হয়, ‘এসব বয়সের আবেগ।’ এই কথাগুলো অনেক সময় সহানুভূতির বদলে বিচ্ছিন্নতা বাড়ায়। মানসিক কষ্টকে ছোট করে দেখলে মানুষ কষ্ট লুকাতে শেখে; আর লুকানো কষ্ট অনেক সময় বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

এখানে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আঠারো বছর পার হলেই সন্তান সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যায়—এ ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ-তরুণীরা স্বাধীনতা চায়, সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু স্বাধীনতা মানে সম্পর্কহীনতা নয়। বাবা-মায়ের কাজ পুলিশি কায়দায় নজরদারি করা নয়; বরং নিয়মিত, সম্মানজনক ও বিশ্বাসভিত্তিক যোগাযোগ বজায় রাখা। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কেমন ঘুমাচ্ছে, খাওয়া-দাওয়া ঠিক আছে কি না, হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যাচ্ছে কি না, ক্লাস বা পরীক্ষার চাপ সামলাতে পারছে কি না—এসব খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

আমাদের সন্তানদের সময় দিতে হবে। বিচার করার আগে তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। ফলাফলের আগে তাদের ঘুম, খাবার, মানসিক অবস্থা ও বন্ধুদের বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু জ্ঞানদানের স্থান নয়, মানবিক আশ্রয়ে পরিণত করতে হবে। কাউন্সেলিং, খেলাধুলা, বই, বন্ধুত্ব, পরিবার এবং পেশাদার সহায়তা—এসবের সমন্বয়েই তরুণ প্রজন্ম নিরাপদ রাখা সম্ভব।

Advertisement

বিশেষ করে দূরে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দূরবর্তী তদারকি (Remote Vigilance) প্রয়োজন। এটি গুপ্তচরবৃত্তি নয়; এটি যত্নের ধারাবাহিকতা। নিয়মিত ফোন করা, শুধু ফলাফল নয়, মনের খবর নেওয়া, নির্দেশ না দিয়ে মনোযোগ দিয়ে শোনা—এসব ছোট কাজ বড় সুরক্ষা তৈরি করতে পারে। সন্তানের স্ক্রিন টাইম নিয়েও কথাবার্তা দরকার। তবে শুধু সময় কমানোর নির্দেশ নয়; কেন সে এত বেশি স্ক্রিনে থাকে, সে কি বাস্তব জীবন থেকে পালাতে চাইছে, তার ঘুম নষ্ট হচ্ছে কি না, সে কি সারাক্ষণ তুলনা ও স্বীকৃতির চাপে আছে—এসব বোঝা বেশি জরুরি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দায় আরও বড়। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সনদ দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়; এটি তরুণ মানুষের জীবনগঠনের পরিসর। প্রতিটি বিভাগে সক্রিয় কাউন্সেলিং ব্যবস্থা থাকা এখন বিলাসিতা নয়, অপরিহার্যতা। অনেক প্রতিষ্ঠানে কাগজে-কলমে কাউন্সেলিং ব্যবস্থা আছে, কিন্তু শিক্ষার্থীরা জানে না কোথায় যাবে, কাকে বলবে, বললে গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে কি না, শিক্ষক বা সহপাঠীরা কী ভাববে। এই ভয় দূর করতে হবে।

প্রতিটি বিভাগে সপ্তাহে অন্তত একদিন মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সেশন, মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সম্পর্কের সংকট মোকাবিলা, ব্যর্থতা গ্রহণ, পরীক্ষার চাপ সামলানো এবং সহায়তা চাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে—কাউন্সেলিং গ্রহণ করা দুর্বলতার প্রমাণ নয়; বরং দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারগুলোর আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি। শুধু সাধারণ চিকিৎসা নয়, সেখানে প্রশিক্ষিত ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, কাউন্সেলর ও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ থাকা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে শুধু কথা বলা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন হয় পেশাদার মূল্যায়ন, থেরাপি, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলো-আপ। মানসিক স্বাস্থ্যকে ‘অতিরিক্ত সুবিধা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি শিক্ষার্থীর একাডেমিক সক্ষমতা, সামাজিক আচরণ ও জীবনরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

শিক্ষকদের ভূমিকাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শিক্ষক যদি শুধু সিলেবাস, উপস্থিতি ও নম্বর প্রদানে সীমাবদ্ধ থাকেন, তাহলে শিক্ষার্থীর ভেতরের সংকট অদৃশ্যই থেকে যায়। কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ ক্লাসে অনিয়মিত হয়ে পড়ছে কি না, আচরণে পরিবর্তন আসছে কি না, ফলাফলে আকস্মিক অবনতি ঘটছে কি না, বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে কি না—এসব লক্ষণ শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রশাসনের নজরে রাখা সম্ভব।

প্রত্যেক বিভাগে একটি ‘স্টুডেন্ট ওয়েলবিইং কমিটি’ থাকা উচিত, যেখানে শিক্ষক, কাউন্সেলর এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি থাকবেন। এতে ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সহজ হবে।

সহশিক্ষা কার্যক্রমকেও মূল শিক্ষার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক, সাহিত্যচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা, ভ্রমণ এবং ক্লাব কার্যক্রমকে সময় নষ্ট মনে করা ভুল। এগুলো তরুণদের সামাজিক বন্ধন তৈরি করে, আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং মনকে ভারসাম্য দেয়। মাঠ, মঞ্চ ও গ্রন্থাগার—এই তিনটি জায়গা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের মানসিক স্বাস্থ্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

বই পড়ার সংস্কৃতিও ফিরিয়ে আনতে হবে। বই শুধু তথ্য দেয় না; এটি মানুষকে নিজের ভেতরের ভাষা খুঁজে পেতে সাহায্য করে। সাহিত্য, দর্শন, জীবনী, ইতিহাস—এসব মানুষকে শেখায় যে কষ্ট ব্যক্তিগত হলেও মানবজীবনে তা অস্বাভাবিক নয়; বিপর্যয় স্থায়ী নয়; ব্যর্থতা জীবনের শেষ কথা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বিভাগীয় সেমিনারগুলোকে শুধু বই ধার দেওয়ার জায়গা হিসেবে নয়, বরং চিন্তা ও আত্মঅন্বেষণের নিরাপদ পরিসর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

আমাদের সবচেয়ে বড় ঘাটতি সম্ভবত আবেগীয় বুদ্ধিমত্তায়। আমরা সন্তানকে জিপিএ, ভর্তি পরীক্ষা, চাকরি ও ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করি; কিন্তু প্রত্যাখ্যান, অপমান, সম্পর্কের ভাঙন, ব্যর্থতা, একাকিত্ব ও অনিশ্চয়তা মোকাবিলার শিক্ষা দিই না। অথচ বাস্তব জীবনে মানুষকে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় তার আবেগের ক্ষেত্রেই। যে তরুণ ব্যর্থতার ভাষা জানে না, সে ব্যর্থতাকে জীবনের চূড়ান্ত রায় বলে মনে করতে পারে। যে তরুণ সাহায্য চাইতে শেখেনি, সে নিজের কষ্ট একা বহন করতে গিয়ে বিপদের মুখে পড়তে পারে।

তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা (Emotional Intelligence) বিষয়ে বাধ্যতামূলক কর্মশালা চালু করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে—আবেগ সত্য, কিন্তু আবেগের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত সব সময় সত্য নয়। সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কোনো সম্পর্কই জীবনের একমাত্র অর্থ নয়। ব্যর্থতা কষ্টদায়ক, কিন্তু তা পরিচয়ের সমাপ্তি নয়। সাহায্য চাওয়া লজ্জার নয়; বরং বেঁচে থাকার সাহসী উপায়।

গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও দায়িত্ব রয়েছে। এমন ঘটনার সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বিস্তারিত তথ্য, ব্যক্তিগত সম্পর্কের অতিরঞ্জন, দোষারোপ কিংবা কৌতূহল-উদ্দীপক উপস্থাপন পরিহার করা উচিত। একটি মৃত্যুকে নাটকীয় ঘটনায় পরিণত করা আরেকটি বিপন্ন মনকে ভুল বার্তা দিতে পারে। আমাদের ভাষা হতে হবে সতর্ক, মানবিক এবং প্রতিরোধমুখী।

তরুণদের মানসিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা নিয়মিত সন্তানদের সঙ্গে কথা বলবেন। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের খোঁজ নেবেন। বন্ধুরা উদ্বেগজনক আচরণ লক্ষ করলে নীরব থাকবেন না। বিশ্ববিদ্যালয় পেশাদার সহায়তা নিশ্চিত করবে। রাষ্ট্র মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করবে। প্রতিষ্ঠানগুলো কাউন্সেলিং ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও সহজপ্রাপ্য করে তুলবে। আর আমরা সবাই শিখব—মানুষের ভেতরের নীরব কষ্টও বাস্তব।

একটি প্রাণের ক্ষতি কখনো পূরণ হয় না। কিন্তু প্রতিটি মৃত্যুর পর যদি আমরা শুধু শোক প্রকাশ করে থেমে যাই, তাহলে আমরা আমাদের দায় এড়িয়ে যাই। আমাদের প্রশ্ন করতে হবে—কেন একজন তরুণ শেষ মুহূর্তের আগে কোনো নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পেল না? কেন সে মনে করল, তার কষ্ট বলার মতো কেউ নেই? কেন কাউন্সেলিং এখনো লজ্জার বিষয়? কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এখনো প্রান্তিক?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা এখন আর ঐচ্ছিক নয়। এটি আমাদের নৈতিক, সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। তরুণদের শুধু মেধাবী নয়, মানসিকভাবে সহনশীল, সম্পর্ক-সক্ষম, আবেগ-সচেতন এবং প্রয়োজনের সময় সাহায্য চাইতে সক্ষম মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

আমাদের সন্তানদের সময় দিতে হবে। বিচার করার আগে তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। তাদের ফলাফলের আগে তাদের ঘুম, খাবার, মানসিক অবস্থা ও বন্ধুদের বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু জ্ঞানদানের স্থান নয়, মানবিক আশ্রয়ে পরিণত করতে হবে। কাউন্সেলিং, খেলাধুলা, বই, বন্ধুত্ব, পরিবার এবং পেশাদার সহায়তা—এসবের সমন্বয়েই তরুণ প্রজন্মকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

একটি প্রাণও যেন আর অকালেই হারিয়ে না যায়—এই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। asmnh.04@ru.ac.bd

এইচআর/এমএফএ/জেআইএম