ক্যাম্পাস

বাকৃবিতে ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুম ও অপহরণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, অনলাইনে সরকারবিরোধী অপপ্রচার এবং সংসদে হিজাব নিয়ে সরকার দলীয় এমপির বক্তব্য নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।

Advertisement

ছাত্রশিবির কর্তৃক গুম ও অপহরণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, অনলাইনে সরকারবিরোধী অপপ্রচার এবং ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রদল।

রোববার (১৪ জুন) মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কে.আর. মার্কেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম শোয়াইব, সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলামসহ শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

এসময় বাকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, গুম, অপহরণ, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা বয়ান নির্মাণ এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শুধু রাজনৈতিক অনৈতিকতারই বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং প্রকৃত ভুক্তভোগীদের প্রতি চরম অবমাননার শামিল। সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে মানবিক ট্র্যাজেডিকে ব্যবহার করা সত্য, ন্যায়বিচার ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিপন্থি।

Advertisement

অপরদিকে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নারী সংসদ সদস্যদের হিজাব, নিকাব ও পর্দাকে লাঞ্ছিত করে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাকৃবি শাখা ছাত্রশিবির।

রোববার (১৪ জুন) বাকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু নাছির ত্বোহা ও সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মঈন এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।

এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ উল্লেখ করে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয় যে, ‘ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্য নোংরা, বিদ্রূপাত্মক ও কুৎসিত এবং পর্দানশীল নারীদের প্রতি বিদ্বেষের পরিচায়ক। এ জাতীয় ঘৃণ্য বক্তব্যের প্রতি গভীর ক্ষোভ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বাকৃবি শাখা শিবির।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত মর্যাদার অধিকারকে পদদলিত করে সংসদের মতো সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে কোনো নারীর ব্যক্তিগত পোশাক, ধর্মীয় বিশ্বাস বা পরিচয়কে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের উপকরণ বানানো শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘনই নয় বরং তা এ দেশের কোটি কোটি পর্দানশীল নারী, অসংখ্য মুসলিম মা-বোন ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে কুঠারাঘাতের শামিল।’

Advertisement

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘একজন নারী কী পরবেন, কীভাবে নিজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করবেন সেটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ও সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকারকে উপহাস, কৌতুক বা সংসদীয় আসনে বসে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানানো কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিনিধির কাজ হতে পারে না। মনিরুল হক চৌধুরীর এই নোংরা বক্তব্য একইসঙ্গে দেশের সচেতন জনতা, বিশেষ করে ধর্মপ্রাণ নারী সমাজের প্রতি এক ঘৃণ্য মানসিকতার উন্মোচন করেছে বলে দাবি জানানো হয়।’

এফএ/এমএস