বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে ছোট দলগুলোর বড় স্বপ্ন পূরণের গল্প নতুন কিছু নয়। গতকালই যেমন ডাচ ক্যারিবীয় দ্বীপ কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বড় হারে। তবে সেই ক্ষত ভুলে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন মাঠের আরেক নতুনের দিকে। আগামীকাল বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারের মতো নামছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। আর নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই তাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ফুটবল পরাশক্তি স্পেনের। ফুটবল দুনিয়ার নজর থাকছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের সামনে কেমন করবে এই পুঁচকে দলটি!
Advertisement
আটলান্টিক মহাসাগরের ১০টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত মাত্র ৬ লাখ জনসংখ্যার এই দেশের ফুটবল ইতিহাস কিন্তু বেশ রোমাঞ্চকর। একটা সময় পর্যন্ত ফুটবলে তাদের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। ২০০০ সালেও ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ছিল ১৮২তম। তবে গত দুই দশকে পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী ফুটবলারদের খুঁজে বের করে দলে ভেড়ানোর এক দারুণ প্রকল্প হাতে নেয় তারা।
দলটির ডাক নাম ‘তুবারোস আজুইস’ বা ব্লু শার্কস (নীল হাঙর)। সেই হাঙরদের মতোই গতি আর আগ্রাসন দিয়ে ২০১৩ ও ২০১৫ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে চমক দেখায় তারা। এবারের বিশ্বকাপে আসার গল্পটা তো রীতিমতো রূপকথা। বাছাইপর্বে আফ্রিকার কঠিন গ্রুপ পেরিয়ে, একের পর এক ফেভারিটকে স্তব্ধ করে দিয়ে তারা টিকিট কেটেছে মূল পর্বের। গতিময় কাউন্টার অ্যাটাক আর জমাট রক্ষণই তাদের মূল শক্তি।
তবে আগামীকাল প্রতিপক্ষ যখন স্পেন, তখন লড়াইটা ডেভিড বনাম গোলিয়াথের। স্পেনের টিকিটাকা আর টিকিটাকার আধুনিক সংস্করণের সামনে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ কতটা টিকবে, সেটাই দেখার।
Advertisement
ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, কুরাসাওয়ের মতো প্রথম ম্যাচে খেই হারিয়ে বড় ব্যবধানে হারতে পারে তারা, আবার আফ্রিকার চেনা শক্তিতে স্পেনকে চমকেও দিতে পারে। ফলাফল যাই হোক কেপ ভার্দের মতো ছোট একটি দেশের বিশ্বমঞ্চে পা রাখাই ফুটবলের আসল সৌন্দর্য। আগামীকাল স্পেনের বিপক্ষে তারা কেবল ১১ জন খেলোয়াড় নিয়ে নামবে না, নামবে কোটি ফুটবলপ্রেমীর সহানুভূতি আর নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন বুক নিয়ে।
আরআই/এমএস