দেশজুড়ে

নোয়াখালীতে ১৭ বেডের হাম ওয়ার্ডে রোগী ৮৭

নোয়াখালীতে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ১৭ বেড়ের হাম ওয়ার্ডে ৮৭ রোগী ভর্তি রয়েছেন। এতে বাথরুম-শয্যাসহ নানা সংকটে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠেছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, সংকটের মধ্যেও সেবা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে।

Advertisement

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ঘুরে দেখা যায়, হাম ওয়ার্ডের ভেতরে-বাহিরে সিটে ও মেঝেতে অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনরা। বাথরুমের দুর্গন্ধ ও অতিরিক্ত লোকজনের চাপে চিকিৎসা নিতে আসা স্বজনরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ জনসহ হামের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট ৮৭ রোগী ভর্তি রয়েছেন। এ সময়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫ জন। এখানে এ পর্যন্ত তিন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, জনবল সংকটের কারণে এ হাসপাতালের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বিঘ্ন ঘটছে। এখানে পরিচ্ছনতা কমীর ৩০ পদের বিপরীতে খালি রয়েছে আটটি।

Advertisement

এছাড়া সিনিয়র কনসালটেন্ট ১০ পদের ছয়টিই খালি রয়েছে। পাশাপাশি সিনিয়র স্টাফ নার্স ২১, স্টাফ নার্স ছয় ও মিডওয়াইফ নার্স তিনজনের পদও খালি রয়েছে।

রোগীর স্বজনরা জানান, রোগী ভর্তি আছে ৮৭ জন। তাদের সঙ্গে আরও দুই শতাধিক স্বজনসহ এ ওয়ার্ডে তিন শতাধিক লোকজন ভিড় করছেন। যেহেতু ব্যাপকহারে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে তাই এ ওয়ার্ডের শয্যা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও বাড়ানো জরুরি।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রাজিব আহম্মেদ চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ১৭ রোগীর বেডে ৮৭ জন ভর্তি থাকলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। এ ওয়ার্ডে গত আড়াই মাস ডা. রাশেদ ও ডা. ইউসুফসহ দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে নতুন তত্ত্বাবধায়ক আরও দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স যুক্ত করেছেন। তবে রোগীর চাপ অনুযায়ী এখানে জনবল আরও বাড়ানো উচিত।

এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আকষ্মিক পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এসময় নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের দায়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন। পরে নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনকে এ হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন।

Advertisement

ইকবাল হোসেন মজনু/এএইচ/এএসএম