জাতীয়

করছাড়ের লোভ দেখিয়ে কাজ হবে না, সেবায় পরিবর্তন আনেন: রিজওয়ান রহমান

২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমান। তিনি বলেন, অর্থনীতিতে কী এমন পরিবর্তন এসেছে যে প্রায় দ্বিগুণ রাজস্ব কিংবা রাজস্ব আদায়ে শতভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। তার ভাষায়-করছাড়ের লোভ দেখিয়ে আপনি মানুষকে আকর্ষণ করতে পারবেন না। যদি না আপনার সেবায় পরিবর্তন আনেন।

Advertisement

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের জন্য কী আছে?’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ব্রিফিং সঞ্চালনা করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।

এতে আরও বক্তব্য দেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, অ্যাকশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির, কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া প্রমুখ।

বিভিন্ন করছাড় প্রসঙ্গে ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি বলেন, করের লোভ দেখিয়ে, করছাড়ের লোভ দেখিয়ে আপনি মানুষকে আকর্ষণ করতে পারবেন না। মানুষের চিন্তা চেতনা পরিবর্তন করতে পারবেন না। যদি না আপনার সেবায় পরিবর্তন আনেন।

Advertisement

রিজওয়ান রহমান বলেন, শুধু কর সুবিধা দিয়ে সামাজিক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সরকারকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবন্ধীবান্ধব স্থাপনা, সেবা ও কর্মপরিবেশ তৈরির বিষয়গুলো স্বেচ্ছাভিত্তিক না রেখে বাধ্যতামূলক করা উচিত। কারণ, করছাড়ের প্রণোদনার চেয়ে নীতিগত বাধ্যবাধকতা ও সচেতনতা বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

রাজস্ব অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঢাকা চেম্বারের সাবেক এই সভাপতি বলেন, গত অর্থবছর প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। কিন্তু নতুন বাজেটে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মানে এ নতুন অর্থবছরে আমরা প্রায় দ্বিগুণ রাজস্ব অর্জন করবাে। অর্থনীতিতে কী চেঞ্জ এসেছে, এটি আমরা জানি না, আপনারাই বিশ্লেষণ করবেন।

তিনি বলেন, বাজেটকে বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে তুলে ধরলেও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা খুব একটা দেখা যায়নি। বিশেষ করে করের আওতা বাড়ানোর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।

রিজওয়ান রহমানের মতে, দেশের কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ৯৬ শতাংশ কর আসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে। বাকি মাত্র ৪ শতাংশ কন্ট্রিবিউট করে অবশিষ্ট বাংলাদেশ। আর মোট কর রাজস্বের প্রায় ৭৪ শতাংশই ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়। মানে আপনি ঢাকাতে যত চিপবেন, এখানে ট্যাক্সপেয়ার বেশি আছে, ততই লাভ। এটিকে আপনি চিপে শেষ করে ফেলেন। এবং এটিকে আপনি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বলছেন। এটি অবশ্যই একটি পপুলিস্ট বাজেট।

Advertisement

বাজেট ঘাটতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা হবে, সে বিষয়েও পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

সাবেক এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, বাজেটে কিছু জনবান্ধব ও কিছু ব্যবসাবান্ধব পদক্ষেপ রয়েছে। তবে সেগুলোর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়ন করা হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে অপচয় ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি করে।

তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতি তিন মাস অন্তর পর্যালোচনা ও জনসম্মুখে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করা উচিত। এতে জবাবদিহিতা বাড়বে ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে।

এলডিসি উত্তরণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রিজওয়ান রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের করহার আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। বিশেষ করে করপোরেট কর ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক সংকট, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা এবং বহিরাগত অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়গুলো বাজেটে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা উচিত ছিল। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্পষ্ট কৌশল প্রয়োজন।

রিজওয়ান রহমানের মতে, বাজেটের আকার বড় হওয়াই যথেষ্ট নয়; রাজস্ব আহরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা নিশ্চিত করাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ইএইচটি/এএমএ