যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সকে সতর্ক করে বলেছেন, দেশটি যদি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত ডিজিটাল সেবা কর প্রত্যাহার না করে, তাহলে ফ্রান্স থেকে আমদানি করা ওয়াইন (মদ) ও শ্যাম্পেনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
Advertisement
ফ্রান্স ২০১৯ সালে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তিন শতাংশ ডিজিটাল সেবা কর চালু করে। এই করের আওতায় দেশটিতে ব্যবসা করা মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও পড়ে।
সোমবার জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পকে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানান।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি ম্যাক্রোঁকে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর কর আরোপ না করার অনুরোধ করেছিলেন।
Advertisement
ট্রাম্পের ভাষায়, যদি তারা এই কর বজায় রাখে, তাহলে ফ্রান্স থেকে আসা সব শ্যাম্পেন ও ওয়াইনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, ম্যাক্রোঁর শুধু এই কর তুলে দিতে হবে। তাহলেই তাকে এমন চাপের মুখে পড়তে হবে না।
এদিকে ফ্রান্সের ওয়াইন ও স্পিরিটস রপ্তানিকারক ফেডারেশনের সভাপতি গ্যাব্রিয়েল পিকার্ড দুই দেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই বিরোধ এমন একটি বিষয় নিয়ে, যা আমাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো বহন করতে হতে পারে। রপ্তানিনির্ভর এখাতের জন্য নতুন এই হুমকি ভালো খবর নয়।
Advertisement
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ফরাসি ওয়াইন ও মদ্যপ পানীয়ের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর ফ্রান্সের মোট রপ্তানির ২১ শতাংশই গেছে মার্কিন বাজারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া ফরাসি ও ইউরোপীয় ওয়াইনের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে, যা আগে ছিল ১০ শতাংশ।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ফরাসি ওয়াইন ও মদ্যপ পানীয়ের রপ্তানি ২১ শতাংশ কমে গেছে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেও ট্রাম্প ফরাসি ওয়াইনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ফ্রান্স তার প্রস্তাবিত বোর্ড অব পিস-এ যোগ দিতে আগ্রহ দেখায়নি।
অন্যদিকে, কানাডা গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা টিকিয়ে রাখতে নিজেদের ডিজিটাল সেবা কর বাতিল করে দেয়। ট্রাম্পের চাপের মুখে দেশটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।
ডিজিটাল সেবা করের সমর্থকদের মতে, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে যেখানে তারা ব্যবসা পরিচালনা করে, সেখানে কর দিতে বাধ্য করাই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি কর ফাঁকি বা কর অপ্টিমাইজেশনের কৌশল মোকাবিলাও এর একটি লক্ষ্য।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও ফরাসি শ্যাম্পেন ও পনিরের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম