আন্তর্জাতিক

বিহারে খান স্যারের কোচিংয়ে হামলার নেতৃত্ব দেওয়া তরুণের নেপালে মৃত্যু

ভারতের বিহার রাজ্যের রাজধানী পাটনায় ‘খান স্যার’ কোচিং সেন্টারে হামলায় মূল অভিযুক্ত ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। নেপালের বিরাটনগরের এক হোটেলে প্রিন্স যাদব নামে ওই যুবককে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

Advertisement

নেপাল পুলিশ জানায়, শনিবার (১৩ জুন) পূর্ব নেপালের বিরাটনগরের এক হোটেলে ওঠেন প্রিন্স। রোববার (১৪ জুন) তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। হোটেল থেকে প্রিন্সের পাঁচ বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে নেপাল পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে প্রিন্স যাদবের পরিবার তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। প্রিন্সের বড় ভাই রওশন আনন্দ। তিনি ও প্রিন্স পাটনার ‘জ্ঞান বিন্দু’ কোচিং সেন্টারের মালিক। তাদের বিরুদ্ধে ২ জুন খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল।

সে অভিযোগের পর রওশন আনন্দকে গ্রেফতার করা হয়। তার ভাই প্রিন্স যাদব সেই থেকে পলাতক।

Advertisement

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নেপাল পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জেনেছে, মৃত্যুর সময় প্রিন্স যাদব মাতাল ছিলেন। তবে তার চোখে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রিন্সকে হত্যা করা হয়েছে কি না, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিং দেওয়ার জন্য ফয়সল খান (খান স্যার) তৈরি করেন ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’। ক্রমেই তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তার জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ ছিল হিন্দিতে খুব সহজবোধ্যভাবে ও নামমাত্র টাকায় শিক্ষাদান।

সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক ছাত্রছাত্রীরা যাতে অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কোচিং সেন্টার খোলেন খান স্যার। ভারতের প্রতিষ্ঠিত কোচিং ইনস্টিটিউটগুলো যেখানে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি ফি দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে থাকে, সেখানে খান স্যারের কোচিং সেন্টার নেয় মাত্র সাড়ে ৭ হাজার থেকে ১৫ হাজার রুপি।

‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’ দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ায় একই পদ্ধতিতে পাটনায় আরও কয়েকটি কোচিং ইনস্টিটিউট খোলা হয়। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম রওশন আনন্দর ‘জ্ঞান বিন্দু’। এই দুই কোচিং সেন্টারের মধ্যে পেশাগত রেষারেষি চলছে শুরু থেকেই। রেষারেষির দরুন আগেও খান স্যারের কোচিং সেন্টারের ওপর হামলা হয়েছে।

Advertisement

সম্প্রতি বিহার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দুই সংস্থাই সফল প্রার্থীদের নিজেদের ছাত্র বলে দাবি করে। এ নিয়ে রেষারেষি আরও ঘনীভূত হয়। এর মধ্যেই ২ জুন খান গ্লোবাল স্টাডিজে হামলা ও ভাঙচুর হয়, ছোড়া হয় বোমাও। আক্রমণকারীদের রুখতে ও আত্মরক্ষায় খান গ্লোবাল স্টাডিজের নিরাপত্তারক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন।

অভিযোগ ওঠে, হামলা চালান রওশন ও প্রিন্সের অনুসারীরা। ওই ঘটনার পর রওশনকে গ্রেফতারও করা হয়। গা ঢাকা দেন প্রিন্স। আটক করা হয় খান কোচিং সেন্টারের নিরাপত্তারক্ষীদেরও।

ফয়সল খান বা খান স্যারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়। গ্রেফতার এড়াতে তিনি আদালত থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন। তবে রওশন এখনো বন্দী রয়েছেন।

এ অবস্থায় প্রিন্সের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে পরিস্থিতি আরও জটিলতর হয়েছে। কোচিং সেন্টার এলাকায় পুলিশি পাহারা বাড়ানো হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসএএইচ