ময়মনসিংহ নগরের ময়নার মোড় এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে না কিনে অন্যত্র থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তা দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
Advertisement
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, শেরপুর জেলার বাসিন্দা ও জনতা ব্যাংকের চরপাড়া শাখায় কর্মরত নজরুল ইসলাম ২০২৩ সালে নগরের ময়নার মোড় এলাকায় ৪ শতক জমি কিনে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনসহ একটি বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই স্থানীয় সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা তাদের কাছ থেকে নির্মাণসামগ্রী কিনতে চাপ দিতে থাকে। রাজি না হওয়ায় একাধিকবার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ বাড়ির সামনে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাসুমা হায়াত, ভাই আজিজুল ইসলাম এবং প্রতিবেশী ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিম আহম্মেদ আহত হন। হামলার সময় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে সাকিম আহম্মেদের মাথায় আঘাত করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে কয়েকজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ভুক্তভোগীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকজন এসে হামলায় যোগ দেয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে নজরুল ইসলামের স্ত্রীও হামলার শিকার হন।
Advertisement
ভুক্তভোগী মাসুমা হায়াত বলেন, আমাদের বাসায় নিয়মিতই এসে হুমকি দেওয়া হতো। সেদিন হঠাৎ করেই একদল লোক এসে আমাদের মারধর করে। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
নজরুল ইসলাম বলেন, আমি ব্যাংক ঋণ নিয়ে বাড়ি করছি। নির্মাণসামগ্রী তাদের কাছ থেকে না কেনায় তারা চাঁদা দাবি করে এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। শেষ পর্যন্ত হামলার শিকার হতে হবে ভাবিনি। আমি এর বিচার চাই।
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর সোমবার দুপুরে নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
Advertisement
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
হোসাইন সুলভ/এনএইচআর/এএসএম