স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়েই বিশ্বকাপে নামছেন কিলিয়ান এমবাপে। ফ্রান্সকে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফিরিয়ে নেওয়া এবং ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জেতাই তার মূল উদ্দেশ্য। শিরোপাশূন্য একটি মৌসুমের পর সমালোচনার মধ্যে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড এবার স্বীকার করেছেন যে তার নিজের খেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে।
Advertisement
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা প্যারিসিয়েনকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সের অধিনায়ক বলেন, বল ছাড়াও খেলার সময় তাকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। সেখানে তিনি বলেন, ‘রক্ষণে আমাকে আরও এক ধাপ এগোতে হবে। আমি সবসময় নিজের কাছে অনেক বেশি প্রত্যাশা রাখি এবং মনে করি এই জায়গাটিতে আমার উন্নতি প্রয়োজন। দলের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ, আর আমি সেটা করব।’
এই আত্মসমালোচনার সূত্রপাত হয়েছিল তার ছোট ভাই এথান এমবাপের একটি প্রশ্ন থেকে। দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রায়ই রক্ষণাত্মক দায়িত্ব ও পরিশ্রমের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। এমবাপে স্বীকার করেছেন, এই দিকটিতে এথান তার চেয়ে ভালো। তবে তিনি এটিকে গঠনমূলক সমালোচনা হিসেবে দেখছেন, যা তাকে আরও উন্নত হতে সাহায্য করবে বলে তিনি মনে করেন।
গত দুই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দুর্দান্ত গোলসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও এমবাপেকে ঘিরে অন্যতম আলোচনার বিষয় ছিল প্রেসিং ও রক্ষণাত্মক কাজে তার সীমিত অংশগ্রহণ। ১০৩ ম্যাচে ৮৬ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট করা এই ফরোয়ার্ড বুঝতে পারছেন কেন এমন প্রশ্ন উঠেছে, এবং তিনি বলছেন দলের স্বার্থে নিজের অভ্যাস পরিবর্তন করতেও প্রস্তুত তিনি।
Advertisement
এমবাপে বলেন, ‘এটা এই বিশ্বকাপ থেকেই শুরু করতে হবে, কারণ আমরা বিশ্বকাপ জিততে চাই। আমি সবকিছু সঠিকভাবে করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, কারণ যে কোনো মূল্যে আমি এই শিরোপা চাই।‘
সম্প্রতি তিনি আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে ফ্রান্সের সাফল্যই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক দিন আগে তিনি বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপ জয়ের বিনিময়ে আমি কোনো গোল না করতেও রাজি। এমন কোনো চুক্তি থাকলে এখনই আমি সেই চুক্তিতে সই করতাম।’
সাক্ষাৎকারে এমবাপে স্মরণ করেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ফ্রান্সের হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের কথাও। সেই স্মৃতি এখনও তাকে তাড়া করে ফেরে বলে জানান তিনি, ‘বিশ্বকাপের ফাইনালে হারাটা খুবই কঠিন। আমরা এত কিছু করলাম, অথচ শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হারলাম। আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি না। পেনাল্টি একটি কারিগরি দক্ষতা। কিন্তু তারপরও ফাইনাল হারার সবচেয়ে নির্মম উপায় হলো এটি।’
এমএআর/আইএন
Advertisement